কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ আজ মন্ত্রণালয়ের মতবিনিময় সভায় জানিয়েছেন যে, দেশের চার (চর) অঞ্চলে জৈব কৃষি চালু করা হবে যাতে মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা ব্যবহার করে রপ্তানি বৃদ্ধি করা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলগুলোতে মাটির গুণগত মান স্বাভাবিকভাবে উঁচু, যা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য জৈব পণ্য চাষের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, চার অঞ্চলে কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার না দিলে বাংলাদেশ সরকার শিল্পমুখী কৃষি রপ্তানি লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শক্তিশালী কৃষি খাতই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম।
এদিকে, সরকারী পরিকল্পনা অনুযায়ী অতিরিক্ত সার ব্যবহার কমিয়ে মাটির স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধার করা হবে এবং সেচ খাল খননের মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
মৎস্য ও পশুপালন, কৃষি ও খাদ্য রাজ্য মন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুও একই সভায় জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা, কৃষি ঋণ এবং অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যে “কৃষক কার্ড” ইস্যু করার কাজ শুরু করেছে, যা কৃষকদের আর্থিক সেবা ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ সহজ করবে।
কৃষি মন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, জৈব চাষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা সরবরাহ করা হবে, যাতে ছোটখাটো কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদন করতে পারে। এছাড়া, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা এবং মাটির গুণগত মান বজায় রাখা হবে।
সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে চার অঞ্চলের সেচ নেটওয়ার্কের পুনর্নির্মাণ, নতুন ড্রেনেজ সিস্টেম স্থাপন এবং মাটির বিশ্লেষণ কেন্দ্র গঠন। এসব কাজের মাধ্যমে জলসেচের দক্ষতা বাড়িয়ে ফসলের ফলন বৃদ্ধি করা হবে।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে হবে; প্রথমে উচ্চ উর্বরতা সম্পন্ন চার এলাকায় পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে, তারপর সফলতা যাচাই করে অন্যান্য অঞ্চলে বিস্তৃত করা হবে। মন্ত্রীর মতে, এই পদ্ধতি দেশের রপ্তানি কাঠামোকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াবে।
সামগ্রিকভাবে, চার অঞ্চলে জৈব কৃষি ও কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ সরকার কৃষি খাতকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্য নিয়েছে। এই নীতি বাস্তবায়িত হলে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে, কৃষকদের আয় বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী হবে।



