শিক্ষা মন্ত্রী ববি হাজ্জাজ রবিবার সকাল ঢাকা ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে উপস্থিত দলের কর্মীদের দেখার সময় ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কেন্দ্র দখল ও বিএনপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে একাধিক অপরাধমূলক মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে নির্বাচনের দিন ঘটিত ঘটনায় শতাধিক কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে কিছু এখনও ভর্তি রয়েছে।
ববি হাজ্জাজের মতে, নির্বাচনের দিন মামুনুল হক নিজে উপস্থিত থেকে তার সমর্থকদের কেন্দ্র দখল ও হামলার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এই নির্দেশনা অনুসরণে বহু কর্মী শারীরিক আঘাত পেয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা না নিলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হবে।
মামুনুল হক এই অভিযোগের কঠোর অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভোটের দিন তার ও তার দলের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংঘাত ঘটেনি এবং কোনো কেন্দ্র দখল করার প্রচেষ্টা করা হয়নি। তিনি যুক্তি দেন, যখন তার দল একটি কেন্দ্রে পৌঁছায়, তখন প্রতিপক্ষ তার ওপর চড়ে ওঠার চেষ্টা করে, ফলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং পরে সেনাবাহিনী এসে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে।
হক আরও জানান, যেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন এবং অধিকাংশ আহত ব্যক্তি নিরাপত্তা বাহিনীর আঘাতে আহত হয়েছে। তিনি মামলার ঘোষণা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলবে।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ruling আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিল। জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে, ফলে ভোটের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রের আশেপাশে সংঘর্ষের খবর উঠে আসে।
ববি হাজ্জাজের উল্লেখিত ঘটনাগুলি ঢাকা ও অন্যান্য জেলায় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ঘটেছে, যেখানে উভয় পার্টির কর্মী উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতাল রেকর্ড অনুযায়ী, একশোাধিক ব্যক্তি আঘাতের শিকার হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন, আঘাতের ধরন হালকা আঘাত থেকে গম্ভীর হাড় ভাঙা পর্যন্ত বিস্তৃত।
সেই সময়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সহ নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল, যাতে শৃঙ্খলা বজায় থাকে। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর হিংসা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
মামলার দায়েরের ফলে সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলো তদন্তের আওতায় আসবে, এবং প্রতিটি আহত কর্মীকে অভিযোগকারী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আইন মন্ত্রীর এই পদক্ষেপ নির্বাচন সংক্রান্ত আইন ও দণ্ডবিধি অনুসারে প্রযোজ্য হবে বলে তিনি জানান।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই আইনি পদক্ষেপ ruling জোট ও বিরোধী জোটের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে, যা নির্বাচনের পরবর্তী পুনর্মিলন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। বিরোধী জোটের নেতারা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন যে, আইনি ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক দমন হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
মামুনুল হক, যিনি পূর্বে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জামায়াত-এ-ইসলামি জোটের গুরুত্বপূর্ণ মুখ, পূর্বে নির্বাচনী বিরোধে তদন্তের মুখে ছিলেন। তার অস্বীকার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর আঘাতের অভিযোগ উভয়ই বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, মামলার পরবর্তী পর্যায়ে আদালতে শুনানি ও প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা নির্বাচনী হিংসা মোকাবিলার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
ববি হাজ্জাজের এই ঘোষণা নির্বাচনী সময়ে শৃঙ্খলা রক্ষার সরকারের দৃঢ়সঙ্কল্পকে প্রকাশ করে, আর মামুনুল হকের প্রত্যাখ্যান রাজনৈতিক বর্ণনার ওপর চলমান বিরোধকে তুলে ধরে। উভয় পক্ষের অবস্থান ভবিষ্যতে আইনগত ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।



