মশা নিয়ন্ত্রণে অগ্রহণযোগ্য অবহেলা মোকাবেলায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) সচিব এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি রাবিবার ডাকযোগে ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী এইচ এম রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ) দ্বারা প্রেরণ করা হয়। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট পিটিশনসহ সব প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১, ডি ব্লক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দা এইচ এম রাশিদুল ইসলাম ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘকাল চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়েছেন। একই বছর ৩১ অক্টোবর জান্নাতি রেহানা (জয়া) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসার পর মৃত্যুবরণ করেন। এই দুই ঘটনার পর থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মশার অস্বাভাবিক ও বিপজ্জনক মাত্রা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী এডিস (Aedes) এবং কিউলেক্স (Culex) প্রজাতির মশার আধিক্য ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগের বিস্তার বাড়িয়ে তুলেছে। এই রোগগুলো নাগরিকদের জীবন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন মাসে মশার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে রোগের ঝুঁকি তীব্রতর হয়।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই অবহেলা শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং সংবিধানিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের সমতুল্য। মশা নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অপ্রতুল পদক্ষেপকে গাফিলতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী, নাগরিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারী সংস্থার উপর আরোপিত, যা পূরণ না হলে আইনি হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।
নোটিশে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে রিট পিটিশন দায়েরের পাশাপাশি অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে আদালতে আদেশ চাওয়া, সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জরুরি নির্দেশনা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় তদারকি নিশ্চিত করা। আইনজীবী রাশিদুল ইসলাম নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে নাগরিকের মৌলিক স্বাস্থ্য অধিকার রক্ষার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ অপরিহার্য হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পেস্টিসাইড স্প্রে, এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি। বিশেষ করে ড্রেন, পাত্রে জমে থাকা পানি এবং অপ্রয়োজনীয় পাত্রে পানি জমা হওয়া রোধ করা মশা প্রজনন কমাতে সহায়ক।
জনসাধারণের জন্য কিছু মৌলিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা উল্লেখ করা যায়: বাড়ির আশেপাশে পানি জমে না রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার করা, মশা জাল ব্যবহার করা, এবং সন্ধ্যাবেলা বাইরে যাওয়ার সময় রেপেলেন্ট ব্যবহার করা। এছাড়া স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে মশা নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করা উচিত।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের অভাবের ফলে রোগের বিস্তার বাড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। আইনি নোটিশের সময়সীমা পূরণ না হলে আদালতের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
অবশেষে, মশা নিয়ন্ত্রণে সক্রিয়তা বাড়াতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং নাগরিকের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আপনি কি আপনার আশেপাশের মশা প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা পরিষ্কার করছেন? আপনার মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন, যাতে একসাথে এই স্বাস্থ্য হুমকির মোকাবেলা করা যায়।



