ঢাকা শহরে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ড সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএব)কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ সংক্রান্ত আর্থিক বিরোধে প্রায় ১,৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেয়। এই আদেশটি তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের আর্থিক দায়বদ্ধতা নিয়ে চলমান বিরোধের সমাধান হিসেবে প্রকাশিত হয়।
বোর্ডের তিনজন সালিশিকারক মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির প্রতিনিধিত্বকারী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। তারা সিএএব ও বিদেশি কন্ট্রাক্টর এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) এর মধ্যে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত হয়েছিল।
বিরোধের মূল বিষয় ছিল তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের আর্থিক শর্তাবলী এবং কাজের পরিধি। সিএএব ও এডিসি উভয় পক্ষই সালিশি প্রক্রিয়ায় তাদের যুক্তি উপস্থাপন করে, যার পর বোর্ড চূড়ান্ত রায় প্রদান করে।
বোর্ডের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাজের পরিধি আইনগতভাবে বাড়ানো হয়নি, ফলে চুক্তি অনুযায়ী পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট ইস্যু করার সময় এখনো আসেনি। এই ভিত্তিতে এডিসি যে পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ফেরত চেয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
এছাড়া, বোর্ড উল্লেখ করেছে যে, সিএএবের অধিকার নেই সালিশি প্রক্রিয়ার খরচ নির্ধারণের। রায়টি উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক এবং পারস্পরিক সম্মতি বা চূড়ান্ত সালিশি রায় না আসা পর্যন্ত তা অবিলম্বে কার্যকর হতে হবে।
সিএএবের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, এই সিদ্ধান্তটি সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য না করে কেবলমাত্র প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা উল্লেখ করেছেন।
এডিসি গঠনকারী তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হল জাপানের মিচিগা কর্পোরেশন, ফুজিতা কর্পোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সি অ্যান্ড টি কর্পোরেশন। এই কনসোর্টিয়াম তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে মূল কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করছিল।
আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই রায় সিএএবের বাজেটের উপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করবে। ১,৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধের দায়িত্ব সরকারী বিমানবন্দর উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যান্য ধাপকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে প্রকল্পের সময়সূচি বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।
নির্মাণ খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য এই রায় ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে বিদেশি কন্ট্রাক্টরদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের সময় চুক্তিগত শর্তাবলীর স্পষ্টতা ও আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। ভবিষ্যতে অনুরূপ বিরোধ এড়াতে চুক্তি ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।
বিমানবন্দর অবকাঠামো প্রকল্পের ধীরগতি দেশের এয়ারলাইন শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে। তৃতীয় টার্মিনাল সম্পন্ন না হলে যাত্রী প্রবাহের বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সংযোগের সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি হবে। তাই সরকারকে বিকল্প তহবিল সংগ্রহের উপায় বা প্রকল্পের পুনর্গঠন বিবেচনা করতে হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, আন্তর্জাতিক সালিশি রায় সিএএবের আর্থিক দায়িত্বকে স্পষ্ট করেছে এবং ভবিষ্যতে চুক্তি-ভিত্তিক প্রকল্পে আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে পুনরায় জোর দিয়েছে। এই রায়ের বাস্তবায়ন দ্রুত না হলে বিমানবন্দর উন্নয়নের সময়সূচি ও খরচে অতিরিক্ত অপ্রত্যাশিত ব্যয় হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ এবং স্বচ্ছ আর্থিক পরিকল্পনা এই ধরনের বিরোধের পুনরাবৃত্তি রোধে মূল চাবিকাঠি হবে।
**সংক্ষেপে মূল বিষয়গুলো:**
– সিএএবকে তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে ১,৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধের আদেশ।
– কাজের পরিধি আইনগতভাবে বাড়ানো হয়নি, পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট এখনো ইস্যু হয়নি।
– এডিসির পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ফেরত চাওয়া প্রত্যাখ্যান।
– রায় বাধ্যতামূলক; সিএএবের বাজেট ও প্রকল্প সময়সূচিতে প্রভাবের সম্ভাবনা।
– ভবিষ্যতে চুক্তি ব্যবস্থাপনা ও আইনি কাঠামোর শক্তিশালীকরণ প্রয়োজন।



