গাড়ি নির্মাতা জিএম গত সপ্তাহান্তে টাহো ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া একজন পাঠকের জন্য ২০২৬ মডেলের ইলেকট্রিক এসকেলেড IQL, যার ওজন প্রায় ৯,০০০ পাউন্ড, ব্যবহার করার সুযোগ প্রদান করেছে। গাড়িটি ১৩০,৪০৫ ডলারের সূচনামূল্য এবং ২২৮.৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ৯৪.১ ইঞ্চি প্রস্থের বিশাল মাত্রা নিয়ে বাজারে এসেছে। লেখক নিজে গাড়ি পর্যালোচক না হলেও, ইলেকট্রিক গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং টাহো যাত্রার আগে গাড়িটি এক সপ্তাহের জন্য পরীক্ষা‑চালনা করার অনুমতি পেয়েছেন।
এই গাড়িটি প্রথমবার দেখা যায় গত গ্রীষ্মে একটি গাড়ি প্রদর্শনীতে, যেখানে বিভিন্ন ডিলার পুরনো ক্লাসিক গাড়ির পাশে নতুন মডেলগুলো প্রদর্শন করছিল। বিশাল গাড়িটিকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম ধারণা ছিল “এটা কত বড়!” এবং একই সঙ্গে এর ডিজাইনের প্রতি অপ্রত্যাশিত প্রশংসা জাগে, কারণ এত বড় গাড়ি সত্ত্বেও রূপে কিছুটা সংযম দেখা যায়।
গাড়িটির বাহ্যিক রূপকে “স্ট্র্যাপিং” বলা যায়; অর্থাৎ শক্তিশালী ও দৃঢ়, তবে অতিরিক্ত অলঙ্কারবিহীন। এর অনুপাতগুলো এমনভাবে সাজানো যে গাড়িটি বিশাল হলেও সামগ্রিকভাবে সুষম দেখায়। তবে গাড়ির বিশালতা দ্রুতই লেখকের উত্তেজনা কমিয়ে দেয়, যখন গাড়িটি প্রস্থানের এক দিন আগে তার বাড়িতে পৌঁছায়।
গাড়িটি ডেলিভারির সময় দেখা যায়, এটি সত্যিই এক দানবের মতো; ২২৮.৫ ইঞ্চি লম্বা এবং ৯৪.১ ইঞ্চি চওড়া হওয়ায় নিজের গাড়িগুলোকে খেলনা মনে হয়। প্রথমে গাড়িটিকে গ্যারেজে রাখার কথা ভাবা হয়, তবে শেষ পর্যন্ত গাড়িটিকে বাড়ির ড্রাইভওয়েতে রেখে যাত্রা শুরু করা হয়।
ড্রাইভওয়ে থেকে গাড়ি বের করা সহজ নয়। গাড়ির হুড এত উঁচু যে ঢালু রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় সামনে কী আছে তা দেখা কঠিন হয়ে যায়। বাড়ি মাঝপথে একটি পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত, যেখানে ডাকবাক্সটি শীর্ষে, ফলে গাড়ি চালিয়ে ওঠার সময় দৃশ্যমানতা সীমিত থাকে। এই সীমাবদ্ধতা নিয়ে লেখক গাড়িটিকে ড্রাইভওয়েতে রেখে যাওয়ার কথাও ভাবেন।
অবশেষে গাড়িটিকে টাহো পর্যন্ত ২০০ মাইল চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর জন্য প্রথমে গাড়িটিকে রাতারাতি ব্যবহার করে কিছু দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করা হয়; রাতের খাবার নেওয়া, জিমে যাওয়া এবং শহরের ছোটখাটো যাত্রা গাড়ির সঙ্গে করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় গাড়ির চালনা অভ্যাস গড়ে ওঠে এবং গাড়ির আকারের সাথে মানিয়ে নেওয়া যায়।
একটি হঠাৎ মুখোমুখি হওয়ার সময়, গাড়ির মালিক একটি পরিচিতকে রাস্তার পাশে দেখেন এবং দ্রুতই গাড়ির আকার নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়ে দেন যে এই গাড়ি তার নতুন গাড়ি নয়, বরং একটি টেস্ট ড্রাইভের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর আকার সত্যিই ট্যাঙ্কের মতো। এই কথোপকথন গাড়ির বিশালতা নিয়ে স্থানীয় মানুষের কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়।
গাড়ির বিশাল মাত্রা, উচ্চ হুড এবং সীমিত দৃশ্যমানতা টাহো পর্যন্ত দীর্ঘ যাত্রা চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারে, তবে জিএমের ইলেকট্রিক এসকেলেড IQL ভবিষ্যতে বড় SUV বাজারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। গাড়ির ইলেকট্রিক পাওয়ারট্রেন এবং উচ্চ মূল্যের সঙ্গে, এটি বিলাসবহুল গাড়ি প্রেমিকদের জন্য একটি নতুন বিকল্প উপস্থাপন করে। টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে উল্লেখিত এই অভিজ্ঞতা দেখায় যে, যদিও গাড়িটি ব্যবহারিক দিক থেকে কিছু সীমাবদ্ধতা রাখে, তবে এর ডিজাইন ও প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ গাড়ি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরীক্ষা‑চালনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, বিশাল গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা প্রথমে ভীতিকর হতে পারে, তবে যথাযথ প্রস্তুতি ও ছোটখাটো রুটে অভ্যাস গড়ে তুললে টাহো বা অন্য কোনো গন্তব্যে নিরাপদে পৌঁছানো সম্ভব। জিএমের এই ইলেকট্রিক SUV বাজারে নতুন দিক নির্দেশ করে, যেখানে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং বিলাসবহুল স্পেস একসাথে মিলিত হয়েছে।



