বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, একটি নোটিশের মাধ্যমে জানিয়েছে যে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী নাগরিকদেরও এখন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার জন্য নিবন্ধন আবেদন করার অনুমতি দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তরুণ প্রাপ্তবয়স্করা ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়ার আগে এনআইডি পেয়ে সুবিধা পাবেন।
এটি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ (২০১৩ সালে সংশোধিত) এর ধারা ৫-এ নির্ধারিত বিধান অনুসারে নেওয়া হয়েছে। আইনটি পূর্বে শুধুমাত্র ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী ব্যক্তিদের এনআইডি পেতে অনুমতি দিত।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদন করার সময় নাগরিকের বয়স যদি ১৬ বা ১৭ বছর পূর্ণ হয়, তবে তিনি নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। বয়স পূর্ণ হওয়ার পরের দিন থেকে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া পূর্বের মতোই থাকবে; আবেদনকারীকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসগুলো আবেদন যাচাই করে এনআইডি ইস্যু করবে।
যেসব আবেদনকারী ১৮ বছর পূর্ণ করবেন, তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে এনআইডি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
এই আদেশটি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) খান আবি শাহানুর খানের স্বাক্ষরে জারি করা হয়েছে। আদেশে সকল আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের অবহিত করে তাৎক্ষণিক কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় পর্যায়ে নোটিশটি দ্রুত প্রেরণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনই আবেদন গ্রহণ শুরু করতে পারবেন। নতুন বয়সসীমা সম্পর্কে তথ্য জনসাধারণের জন্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনটি তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে; আবেদনকারীকে অতিরিক্ত কোনো অনুমোদন বা অপেক্ষার সময়ের প্রয়োজন হবে না। সকল আবেদনপত্র একই প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করা হবে।
পূর্বে ১৮ বছর পূর্ণ না করা নাগরিকদের এনআইডি পেতে বাধা থাকায় তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারতেন না। নতুন নীতি সেই ফাঁকটি পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুবকরা এখন শৈশবের শেষ পর্যায়ে থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়ে সরকারি সেবা ও সুবিধা সহজে ব্যবহার করতে পারবে। এতে শিক্ষার্থী ও কর্মসংস্থান প্রক্রিয়ায় সুবিধা বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, তরুণ ভোটারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে। দলগুলোকে এখন যুবক ভোটারদের চাহিদা ও প্রত্যাশা বিবেচনা করে কৌশল গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এই পদক্ষেপকে নাগরিক অধিকার সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।
নতুন বয়সসীমা কার্যকর হওয়ার পর প্রথম আবেদনগুলো আগামী সপ্তাহে শুরু হওয়ার কথা



