রবিবার, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে টের্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ নারী ফাইনালে বাংলাদেশ ‘এ’ দল ৪৬ রান পার করে ভারতকে পরাজিত করে দ্বিতীয় বছর ধারাবাহিকভাবে রানার‑আপ অবস্থান নিশ্চিত করে। টুর্নামেন্টের লক্ষ্য ছিল ১৩৫ রান, তবে বাংলাদেশ ১৯ ওভারের ১.১ ভাগে মাত্র ৮৮ রান সংগ্রহ করতে পারে নি।
এই প্রতিযোগিতা, যা পূর্বে এ সি সি নারী টি২০ এমার্জিং টিমস এশিয়া কাপ নামে পরিচিত ছিল, প্রথমবার ২০২৩ সালে হংকংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সেইবারও বাংলাদেশ ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে রানার‑আপ হয়েছিল, ফলে এই বছরও একই ফলাফল পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
ইন্ডিয়ার ব্যাটিং ইনিংস ৪৪ রানে চারটি উইকেট হারিয়ে শুরু হলেও, তৃতীয় ওয়িকেটের পর টেজাল হসাবনিস এবং ক্যাপ্টেন রাধা যাদবের সংযোজিত ৬৯ রানের অংশীদারিত্ব দলকে স্থিতিশীল করে। রাধা ৩০ বলের মধ্যে ৩৬ রান করেন, আর টেজাল ৩৪ বলে অচল ৫১ রান গড়ে তোলেন, যা দলের মোট ১৩৪ রান/৭ উইকেটের মূল ভিত্তি গঠন করে।
ইন্ডিয়ার ব্যাটিংয়ে টেজাল ও রাধার পাশাপাশি অন্যান্য খেলোয়াড়ের অবদান সীমিত থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ১৩৪ রানে আটকে থাকা ভারতীয় দলকে লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট সহায়তা করে। তাদের স্কোর ১৩৪/৭, যা বাংলাদেশকে ১৩৫ রান লক্ষ্য করে শিকড়ে ফেলে।
বাংলাদেশের শুটিং ইনিংসে শামিমা সুলতানা শীর্ষ স্কোরার হয়ে ২০ রান করেন, শারমিন সুলতানা ১৮ রান এবং ক্যাপ্টেন ফাহিমা খাতুন ১৪ রান যোগ করেন। তবে উইকেটের ধারাবাহিক পতন এবং পার্টনারশিপের অভাবের ফলে ব্যাটিং লাইন‑আপের মোট স্কোর ৮৮/?? হয়ে গেল।
ইন্ডিয়ার বোলিং দলে প্রিমা রাওয়াত ৩ উইকেটের সঙ্গে মাত্র ১২ রান দিয়ে সবচেয়ে কার্যকরী পারফরম্যান্স দেখান। তানুজা কানওয়ার ও সোনিয়া মেন্ধিয়া প্রত্যেকে দুইটি করে উইকেট নেন, যা ভারতের রক্ষণশীল দিককে শক্তিশালী করে।
বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন ফাহিমা খাতুন বোলিংয়ে ৪ উইকেটের সঙ্গে ২৫ রান দিয়ে দলের একমাত্র বড় সাফল্য অর্জন করেন। যদিও তার অল‑রাউন্ড পারফরম্যান্স প্রশংসনীয়, তবু তা ভারতীয় দলের জয় রোধে যথেষ্ট না হয়ে দাঁড়ায়।
ফাইনালের পর, রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপের পরবর্তী পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে প্রস্তুতি নিতে হবে, কারণ টুর্নামেন্টের শেষ রাউন্ডে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। বাংলাদেশি তরুণী খেলোয়াড়দের জন্য এই পরাজয় ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সারসংক্ষেপে, ভারতীয় দল ১৩৪ রানে লক্ষ্য পূরণ করে, আর বাংলাদেশ ৪৬ রান পার করে হারের মুখে পড়ে। উভয় দলের পারফরম্যান্সে কিছু উজ্জ্বল দিক থাকলেও, শেষ পর্যন্ত শিরোপা ভারতীয়দেরই হাতে শেষ হয়।



