ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – প্রধানমন্ত্রী আজ (রবিবার) থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেন এবং আগামীকাল (সোমবার) জাপান সরকারের প্রতিনিধি, জাপানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন। নির্দেশনা ও বৈঠক দুটোই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ, যা দেশের বিমান পরিবহন ক্ষমতা বাড়াতে লক্ষ্যভেদী।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রকল্পের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন দ্রুত করা এবং বাজেটের অতিরিক্ত বরাদ্দের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, নির্মাণ কাজের গতি বাড়াতে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি। এছাড়া, প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে তৃতীয় পক্ষের তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়।
থার্ড টার্মিনালটি বর্তমানে প্রাথমিক ভিত্তি কাজ শেষ হয়েছে এবং কাঠামোগত নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে। মোট খরচ প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন টাকার অনুমান, যার মধ্যে বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের অংশ রয়েছে। সম্পন্ন হলে টার্মিনালটি বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন যাত্রী সামলাতে সক্ষম হবে, যা বর্তমান টার্মিনালের ক্ষমতার দ্বিগুণের কাছাকাছি। সরকার এই প্রকল্পকে দেশের পর্যটন ও বাণিজ্যিক সংযোগ বাড়ানোর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে।
জাপানি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপান সরকারের সঙ্গে চলমান সহযোগিতা বিষয়ক আলোচনা চালাবেন। জাপান সরকার পূর্বে বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদান করেছে, যার মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ ও ২ এর আধুনিকায়ন অন্তর্ভুক্ত। এই সহযোগিতা দেশের এয়ারপোর্ট মডার্নাইজেশন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।
বৈঠকে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা তৃতীয় টার্মিনালের তহবিল সংগ্রহ, জাপানি প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম নিয়ে বিশদ আলোচনা করবেন বলে জানা যায়। বিশেষত, জাপান সরকারের কাছ থেকে নিম্ন সুদের ঋণ ও ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্টের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার প্রত্যাশা রয়েছে। এধরনের সমন্বয় প্রকল্পের সময়সীমা কমিয়ে আনার পাশাপাশি গুণগত মান বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপটি দেশের বিমান পরিবহন খাতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। থার্ড টার্মিনাল সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়বে, যা বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা ও পর্যটন আয় বৃদ্ধি করবে। এছাড়া, জাপান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পে সমন্বয় বাড়াবে।
বৈঠকের পর ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার ত্বরিতভাবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও তহবিলের ব্যবস্থা করবে এবং জাপান সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে। উভয় পক্ষই এই উদ্যোগকে দু’দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কৌশলগত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
এই নির্দেশনা ও বৈঠক দেশের বিমানবন্দর অবকাঠামোকে আধুনিকায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের আন্তর্জাতিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



