বাংলাদেশ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম রবিবার ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে একটি ভার্চুয়াল সভায় সকল ইউনিট প্রধান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলা পুলিশ সুপারগণকে সম্বোধন করে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জরুরি আহ্বান জানিয়ে জানান যে, কোনো পরিস্থিতিতেই আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা আইজিপি মহাশয়ের নির্দেশ অনুসরণ করে, দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ভার্চুয়াল মিটিংটি সম্পূর্ণভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং এতে সকল উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।
আইজিপি মহাশয় উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ বা মাদক সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ সুবিধা প্রদান করা যাবে না।
এছাড়া, তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো ধরনের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না এবং এমন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই নির্দেশনা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে রোধ করে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশকে মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আইজিপি মহাশয় বলেন, হাইওয়ে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, হাইওয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের গতি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য।
হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা নিতে নির্দেশ দেন। জেলা স্তরে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে রাস্তায় নিরাপত্তা বাড়ানো এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপের দ্রুত সনাক্তকরণ সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
আইজিপি মহাশয় অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন যে, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং মাদক ব্যবসা মোকাবেলায় বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং এই ফোর্সগুলোকে যথাযথ সমর্থন ও সম্পদ প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে সামাজিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং রেঞ্জ ডিআইজি-দেরও একই দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে বলা হয় এবং তারা সকল স্তরে আইজিপি মহাশয়ের নির্দেশ মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইজিপি মহাশয়ের বক্তব্যের পর, সকল ইউনিট প্রধানকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্বের অধীনে তৎপরতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের অবহেলা না করতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ছাড় নেই এবং সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
এই নির্দেশনার ভিত্তিতে, বাংলাদেশ পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করবে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে তৎক্ষণাৎ কার্যকরী নির্দেশনা প্রদান করবে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
অবশেষে, আইজিপি মহাশয় সকল নাগরিককে নিরাপদ পরিবেশের জন্য সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন যে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি আশ্বাস দেন যে, বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা রক্ষায় অটল থাকবে।



