ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – জাতীয় সংসদ ১২ মার্চের অধিবেশনে পুনরায় সমবেত হবে এবং প্রথম দিনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জন্য ভোটদান করা হবে। এই পদগুলোর নির্বাচন সংসদের কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংসদের এই প্রথম অধিবেশনটি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হবে, যা পূর্ববর্তী বিরতির পর সদস্যদের পুনরায় একত্রিত হওয়ার সূচনা চিহ্নিত করে। অধিবেশনের সূচিতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন সেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতৃত্বের কাঠামো স্থাপিত হয়।
স্পিকার সংসদের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা, যিনি সংসদীয় আলোচনার শৃঙ্খলা রক্ষা, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় মূল ভূমিকা পালন এবং সরকারী নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করেন। ডেপুটি স্পিকার তার সহায়ক হিসেবে কাজ করে, বিশেষত স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদীয় কার্যক্রম চালিয়ে যায়। এই দুটি পদে সঠিক ব্যক্তির নির্বাচন সংসদের কার্যকরী পরিচালনা নিশ্চিত করবে।
সরকারি দল আওয়ামী লীগ স্পিকারের পদে বর্তমান ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায় এবং তার প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছে। বিপরীতে, বিরোধী দল বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া স্পিকারের জন্য নিজস্ব প্রার্থী উপস্থাপন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে তীব্র করবে। উভয় দলের এই অবস্থান সংসদীয় ক্ষমতার ভারসাম্যকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রাখে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন গোপন ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রার্থীর অধিকাংশ ভোট পেতে হবে। যদি প্রথম রাউন্ডে কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পায়, তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে সর্বোচ্চ দুইজন প্রার্থীকে নিয়ে পুনরায় ভোট নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া সংসদীয় নিয়মাবলী অনুযায়ী নির্ধারিত।
সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জন্য ভোটদান শুরু হবে। শপথের সময় সংসদীয় সদস্যরা তাদের দায়িত্বের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবে, এরপর দ্রুতই নেতৃত্বের নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এই ধারাবাহিকতা সংসদের কার্যক্রমে কোনো বিলম্ব না ঘটিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন স্পিকারের নির্বাচনের পরপরই অনুষ্ঠিত হবে। ডেপুটি স্পিকারের ভূমিকা স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদীয় আলোচনার পরিচালনা এবং নির্দিষ্ট কমিটিতে সদস্যদের সমন্বয় করা। তাই এই পদে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন সংসদের সমন্বিত কাজের জন্য অপরিহার্য।
গত কয়েক মাসে স্পিকারের পদে কিছু বিতর্ক দেখা গিয়েছিল, যেখানে পূর্ববর্তী স্পিকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন প্রার্থীর প্রস্তাবনা নিয়ে পার্টিগুলোর মধ্যে মতবিরোধ দেখা গিয়েছিল। তবে এখন উভয় প্রধান দলই তাদের প্রার্থী নির্ধারণে অগ্রসর হয়েছে, যা ভোটের প্রস্তুতিকে ত্বরান্বিত করবে।
নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন সংসদের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা, বাজেট অনুমোদন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ议案ের গতি নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে সরকারী নীতি বাস্তবায়ন দ্রুততর হবে এবং সংসদীয় বিরোধ কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পূর্বে সংসদের এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর সুষ্ঠু নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সংসদের স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সংসদীয় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং নতুন নেতৃত্বের গঠন দেশের আইনগত কাঠামোর শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনের ফলাফল অনুসারে পার্টিগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়বে, যা ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে।
সারসংক্ষেপে, ১২ মার্চের অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। উভয় প্রধান দলই তাদের প্রার্থীকে সমর্থন করে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং ফলাফল সংসদের কার্যকরী পরিচালনা ও দেশের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলবে।



