২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানালেন, শীর্ষ পর্যায়ের বাংলাদেশ পুলিশে শীঘ্রই পরিবর্তন আসবে। একই সময়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হবে।
মন্ত্রিত্ব সাম্প্রতিককালে গ্রহণ করা সালাহউদ্দিন আহমেদকে বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সাংবাদিকরা বিশেষ করে চাঁদা দাবির সঙ্গে যুক্ত একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় হামলা ও রাজধানীর আদাবরে সরকারি অফিসে ঘটিত হিংসা সম্পর্কে জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী এসব ঘটনার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন এবং ফলাফল তার কাছে জমা দিতে বলেন।
চাঁদা দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এমব্রয়ডারি কারখানায় হামলার বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বললেন, তদন্তের রিপোর্ট পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ অপরিহার্য।
আদাবরে সরকারি অফিসে অনুপ্রবেশের ঘটনায়ও মন্ত্রী একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখান। তিনি জানান, এ খবর তার কানে পৌঁছেছে এবং তদন্তের ফলাফল জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রীর মতে, যদি কোনো অবৈধ কাজ নিশ্চিত হয়, তবে তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
সেই সঙ্গে তিনি শীর্ষ পর্যায়ের বাংলাদেশ পুলিশের কাঠামোতে পরিবর্তনের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন। “কিছু পরিবর্তন আসবেই, তবে তাৎক্ষণিক নয়; কিছু সময়ের পরই বাস্তবায়িত হবে,” তিনি বলেন, যা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
সংসদ অধিবেশন আহ্বানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। রাষ্ট্রপতি ১৫ দিন আগে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন, যা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। অনুমোদন পাওয়ার পরই অধিবেশন আহ্বান করা হয়।
১২ মার্চ নির্ধারিত অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া প্রথামাফিক শোক প্রস্তাব গ্রহণ, রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম চলবে বলে মন্ত্রী জানান।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, শীর্ষ পর্যায়ের পুলিশ পরিবর্তন এবং আসন্ন সংসদ অধিবেশন দুটোই দেশের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলবে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যায়।
অধিবেশনের সময়সূচি ও এজেন্ডা স্পষ্ট হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রস্তুতি নিতে সময় মিলবে। শীর্ষ পর্যায়ের পুলিশে পরিবর্তন ও সংসদীয় আলোচনার ফলাফল দেশের নিরাপত্তা নীতি ও শাসন কাঠামোর দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



