ইলেকশন কমিশন আজ ঘোষণা করেছে যে বগুড়া-৬ উপ-সদস্য নির্বাচন এবং শেরপুর-৩-এ পুনরায় নির্ধারিত ভোট ১৪ই এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে পার্লামেন্টের কিছু আইনগত পরিবর্তনের অনুমোদন এখনও বাকি রয়েছে, যা স্থানীয় সরকার ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময়সূচিকে প্রভাবিত করবে।
কমিশনের মুখপাত্র, নির্বাচনী কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, আজ বিকালে আগারগাঁওয়ের অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের প্রধান কারণ হল পহেলা বৈশাখের সময়ে বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের সম্ভাবনা, যা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। তাই তারা এই মৌসুমের আগে ভোট শেষ করার চেষ্টা করছে।
মাসুদ বলেন, “আমরা এই সময়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখছি এবং আশাবাদী যে তা সম্ভব হবে।” তার এই মন্তব্যে কমিশনের সময়মতো কাজ সম্পন্ন করার দৃঢ় সংকল্প স্পষ্ট হয়।
মহিলা সংরক্ষিত আসনের বিষয়েও কমিশন ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তিনি জানিয়েছেন, সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের নির্বাচন মূলত পার্লামেন্টের দলগুলো তাদের প্রার্থী নামাজুক্ত করে করে। এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে চলমান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে শেষ হতে হবে।
সংরক্ষিত আসনের তালিকা কখন প্রকাশ হবে তা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরেও মাসুদ জানান, “এই তালিকা শপথ গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে ঘোষিত হবে। সময় এখনও আছে এবং দলগুলো নামাজুক্তি চালিয়ে যাচ্ছে, তাই আমরা শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব।” এই সময়সীমা পার্লামেন্টের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।
পোস্টাল ভোটের ক্ষেত্রে শেরপুর-৩-এ ইতিমধ্যে ভোটারদের কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, বগুড়া-৬-এ বিদেশে বসবাসকারী ভোটারদের জন্য ভোটের পত্র পুনরায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো ভোটার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত পরিবর্তনও আলোচনার বিষয়। কমিশন বর্তমানে পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় যে, মেয়র পদে পার্টি নামাজুক্তি সংক্রান্ত বিধান সংশোধন করা হবে কিনা। এই বিধান যদি পার্লামেন্টে গৃহীত হয়, তবে স্থানীয় নির্বাচনের প্রক্রিয়া তদনুযায়ী চলবে।
বৈধভাবে পার্টি চিহ্ন ব্যবহার না করে ভোটদান করার বিধানটি বর্তমানে বাতিল হয়েছে। মাসুদ উল্লেখ করেন, “যদি পার্লামেন্টে এই বিধানটি পুনরায় অনুমোদিত হয়, তবে আমরা সেই অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাব। অন্যথায়, পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে।” এই অনিশ্চয়তা স্থানীয় নির্বাচনের সময়সূচিকে প্রভাবিত করতে পারে।
কমিশন বর্তমানে পার্লামেন্টের সেশন শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। পার্লামেন্টে যদি সংশোধিত বিধান অনুমোদিত হয়, তবে শীঘ্রই স্থানীয় সরকার ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হবে। অন্যদিকে, কোনো পরিবর্তন না হলে বর্তমান প্রক্রিয়া চালু থাকবে।
ঢাকার দুইটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বিষয়েও একই রকম অপেক্ষা চলছে। মাসুদ জানান, “ঢাকার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্যও আমরা পার্লামেন্টের মতামত ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। একবার স্পষ্টতা পাওয়া গেলে ভোটের সময়সূচি নির্ধারিত হবে।” এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজধানীর নগর প্রশাসনেও পরিবর্তন আসতে পারে।
সংক্ষেপে, ইলেকশন কমিশনের লক্ষ্য হল বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ নির্বাচনের সময়সীমা পহেলা বৈশাখের আগে শেষ করা, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কমে। তবে পার্লামেন্টের আইনগত অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনা ও ভোটার অংশগ্রহণের ওপর প্রভাব ফেলবে, এবং দেশের সামগ্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়মতো সম্পন্ন হওয়ার জন্য পার্লামেন্টের দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে।



