আজ জাতীয় নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা‑১৩ের আইনসভা সদস্য ও শিক্ষা মন্ত্রী ববী হাজ্জাজ জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের গৃহীত আহত বিএনপি কর্মীদের পরিদর্শনের সময় উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনী কেন্দ্রে সংঘটিত হিংসা ঘটনার জন্য মামুনুল হাক ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যা সহ একাধিক মামলা দায়ের করা হবে।
ববী হাজ্জাজ, যিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন এবং ঢাকা‑১৩ থেকে সংসদে নির্বাচিত, বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মামুনুল হাক সরাসরি ভোটকেন্দ্রগুলোতে আক্রমণ আদেশ দিয়েছেন এবং নেতা হায়দার আলীর ওপর আত্মহত্যা প্রচেষ্টার প্রধান দায়ী হিসেবে তাকে অভিযুক্ত করা হবে।
হায়দার আলী, যিনি বিএনপি কর্মী হিসেবে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় উপস্থিত ছিলেন, বর্তমানে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত এবং হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসা চলছে। ববী হাজ্জাজের মতে, হায়দার আলীর পরিবার আত্মহত্যা মামলার অভিযোগ দায়ের করবে, আর অন্যান্য আহতরা আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় পৃথকভাবে মামলা দায়ের করবে।
ববী হাজ্জাজ আরও জানান, ভোটের দিন মামুনুল হাকের সমর্থকরা একাধিক ভোটকেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করেন। কিছু আক্রমণ ভোটদান চলাকালীন, আবার কিছু গণনা পর্যায়ে ঘটেছে। বিএনপি কর্মীরা প্রতিরোধ করলে তাদের উপর গুলি ও আঘাতের হামলা চালানো হয়, যার ফলে প্রায় একশো কর্মী আহত হয়েছে।
মামুনুল হাক, যিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর, এই অভিযোগের কঠোর প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে তবে সম্পূর্ণ দায়িত্ব ববী হাজ্জাজের ওপর থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আইনগত লড়াইয়ের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত, না যে হিংসা ও অপরাধের মাধ্যমে।
হাসপাতালে উপস্থিত ববী হাজ্জাজের মতে, হায়দার আলীর অবস্থা গুরুতর, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ তার শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর প্রভাব ফেলছে এবং তিনি আইসিইউতে তীব্র পর্যবেক্ষণে আছেন। তিনি জানান, হায়দার আলীর পরিবার ইতিমধ্যে আত্মহত্যা মামলার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ববী হাজ্জাজের দাবি অনুযায়ী, মামুনুল হাক এক ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন এবং তার সমর্থকরা সরাসরি তাকে আক্রমণ আদেশ দিতে দেখেছে। এই ঘটনাটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
মামুনুল হাকের মন্তব্যে তিনি একটি বাংলা প্রবাদ উল্লেখ করে বলেন, “ধাক্কা দিয়ে জয়, আর কান্না দিয়ে জয় আবার পাওয়া যায়”। তিনি দাবি করেন, তাদের ওপর জোরপূর্বক জয়লাভ করা হয়েছে এবং এখন তারা আবার অন্য উপায়ে জয় অর্জনের চেষ্টা করছে।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, নির্বাচনী হিংসা এবং আইনি পদক্ষেপের পরিণতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। উভয় পক্ষের আইনি পদক্ষেপের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতের রায় আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ববী হাজ্জাজের মতে, যদি মামুনুল হাকের সমর্থকরা সত্যিই ভোটকেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করে থাকে, তবে তা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে।
অবশেষে, হায়দার আলীর স্বাস্থ্য অবস্থা এবং অন্যান্য আহতদের আইনি সহায়তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উভয় দলই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দাবিগুলি সমর্থন করতে চায়, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



