হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প সংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে প্রাপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এ বিষয়ে জানিয়ে বলেছেন, সরকারীর নির্দেশ অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার সরকারী সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আশিক চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেন, আজই প্রধানমন্ত্রীকে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে এবং তিনি কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
আশিক চৌধুরী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা ভিত্তি করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। তিনি আরও জানান, এই নির্দেশনা অনুসরণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
সম্প্রতি বিমান মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছেন; তিনি এখনো প্রকল্পের মূল সমস্যাগুলি সম্পূর্ণভাবে বুঝতে চেষ্টা করছেন। তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি ছয় বছর আগে শুরু হলেও বিভিন্ন কারণে অগ্রগতি ধীর হয়েছে, তাই নতুন মন্ত্রীকে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে হবে।
এই টার্মিনাল সম্পন্ন হলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান সময়ে বিমানবন্দরে অতিরিক্ত চাপ দেখা দিচ্ছে, ফলে অতিরিক্ত টার্মিনাল নির্মাণে বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, টার্মিনাল প্রকল্পের দ্রুত সমাপ্তি পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং স্থানীয় নির্মাণ খাতের জন্য নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এছাড়া, বর্ধিত ক্ষমতা আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর জন্য ঢাকা-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে আশিক চৌধুরী জানান, তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা সংক্রান্ত নতুন টেন্ডার এখনো নির্ধারিত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, এটি একটি সরকার-থেকে-সরকার (জি-টু-জি) ইস্যু, তাই বর্তমানে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
প্রকল্পের পরবর্তী ধাপগুলোতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন হবে, যা সরকারী নীতিমালা ও আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হবে। আশিক চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, সব সিদ্ধান্ত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হবে।
তৃতীয় টার্মিনাল দেশের বাণিজ্যিক সংযোগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি কেবল যাত্রী পরিবহনই নয়, কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতাও বাড়াবে, ফলে রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রমে গতি আসবে।
প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এয়ারলাইনগুলোকে সময়সূচি মেনে চলতে সহায়তা করবে এবং টিকিটের মূল্যে অতিরিক্ত চাপ কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, বিমানবন্দরের কার্যকরী সময় বৃদ্ধি পেলে গ্রাহক সেবার মানও উন্নত হবে।
সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে অবকাঠামো আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় টার্মিনাল সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং নতুন প্রকল্পের জন্য তহবিলের প্রবাহ সহজ হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, প্রকল্পের তহবিল নিশ্চিত করা এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় না রাখলে পুনরায় বিলম্বের সম্ভাবনা রয়ে যায়। তাই সরকারকে সময়মতো আর্থিক ব্যবস্থা এবং স্পষ্ট নীতি নির্ধারণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
আশিক চৌধুরী শেষ করে বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়মিত আপডেট প্রদান করবে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেবে। ভবিষ্যতে টার্মিনাল প্রকল্পের অগ্রগতি দেশের বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



