31.1 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসমাজকল্যাণ মন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না বলে নিশ্চিত

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না বলে নিশ্চিত

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সরকারী সচিবালয়ের মন্ত্রীর দপ্তরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে বলেন, দুর্নীতির কোনো ফাঁক থাকবে না। তিনি এই বক্তব্যের মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারকে লক্ষ্য করে চালু করা নতুন সামাজিক সুরক্ষা স্কিমের বাস্তবায়ন পদ্ধতি তুলে ধরেছেন।

মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সংবাদসভার সময়ে তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ডের বণ্টন তিনটি পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রথম ধাপে সর্বাধিক দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্ড প্রদান করা হবে, যাতে তৎক্ষণাৎ মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা পৌঁছায়। দ্বিতীয় ধাপে মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, আর তৃতীয় ধাপে বাকি তালিকাভুক্ত গৃহস্থালিগুলোকে সমানভাবে সুবিধা দেওয়া হবে।

বণ্টন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করবে বলে জানায়। প্রতিটি আবেদনকারীর তথ্য অনলাইন সিস্টেমে রেজিস্টার করা হবে, এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ত্রৈমাসিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। তদুপরি, স্বতন্ত্র তদারকি কমিটি গঠন করে স্থানীয় সমাজসেবী সংস্থা ও নাগরিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো অনিয়ম দ্রুত সনাক্ত করে সংশোধন করা যায়।

মন্ত্রীর মতে, এই স্কিমের অন্যতম মূল লক্ষ্য হল পরিবারে নারীর অবস্থান শক্তিশালী করা। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত সুবিধা প্রদান করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে গৃহস্থালির আয় বাড়িয়ে দেশের সামগ্রিক স্বচ্ছলতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়, এবং এই দিকটি সরকারী নীতির কেন্দ্রে থাকবে।

বিপক্ষের কিছু নেতা অতীতের সামাজিক সুরক্ষা বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তারা জোর দেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদারকি সংস্থার অংশগ্রহণ এবং তথ্যের পাবলিক অ্যাক্সেস অপরিহার্য। তবে মন্ত্রী বলেন, নতুন সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয় যাচাই প্রক্রিয়া এবং রিয়েল-টাইম ডেটা শেয়ারিং যুক্ত করা হয়েছে, যা পূর্বের সমস্যাগুলোকে মূলত দূর করবে।

এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ফ্যামিলি কার্ড স্কিমের সফল বাস্তবায়ন সরকারকে দরিদ্র ভোটার গোষ্ঠীর কাছ থেকে সমর্থন বাড়াতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে দারিদ্র্য হার এখনও উচ্চ, সেখানে এই উদ্যোগের প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করছেন, নীতির কার্যকরী পর্যায়ে যথাযথ তহবিল এবং কর্মীসংখ্যা নিশ্চিত না হলে লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের প্রথম রাউন্ডের আবেদনপত্র ইতিমধ্যে অনলাইন পোর্টালে উন্মুক্ত হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত হবে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর স্থানীয় অফিসে সরাসরি বিতরণ শুরু হবে, যেখানে প্রত্যেক গ্রাহকের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য বায়োমেট্রিক ডেটা ব্যবহার করা হবে।

মন্ত্রীর দপ্তরে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, এই স্কিমের জন্য অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে। তদুপরি, স্থানীয় সরকার ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আবেদন প্রক্রিয়ার সহজতর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনের শেষ মন্তব্যে তিনি পুনরায় জোর দেন, ফ্যামিলি কার্ডের বিতরণে কোনো অনিয়মের সুযোগ না রেখে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারকে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিয়ে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা জালকে শক্তিশালী করা হবে এবং ভবিষ্যতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর ভিত্তি স্থাপন করা হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments