31.1 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসালমান শাহ হত্যার মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে দেরি, আদালত দিল অতিরিক্ত এক...

সালমান শাহ হত্যার মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে দেরি, আদালত দিল অতিরিক্ত এক মাস অর্ধেক সময়

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত সপ্তাহে সালমান শাহ হত্যার মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে দেরি হওয়ায় আদালতকে এক মাস অর্ধেক অতিরিক্ত সময় প্রদান করেন। রমনা মডেল থানার ইনস্পেক্টর আতিকুল ইসলাম খন্দকার নির্ধারিত রবিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় রানা মহোদয় ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী জানান, দেরি হওয়ার কারণ তদন্তকারী অফিসারকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে অতিরিক্ত সময় নিতে হয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে তদন্ত দলকে প্রতিবেদন সম্পূর্ণ করে আদালতে উপস্থাপন করার জন্য নতুন সময়সীমা প্রদান করা হয়েছে।

সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী ২০ অক্টোবর, মৃত্যুর ২৯ বছর পর তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুমের মাধ্যমে মামলাটি পুনরায় দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন যে, তার পুত্রের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত ১১ জন ব্যক্তি রয়েছে, যাদের মধ্যে সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি এবং ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ অন্যান্য নাম অন্তর্ভুক্ত।

মামলায় নাম উল্লেখিত অন্যান্য সন্দেহভাজন হলেন খলনায়ক ডন, ডেডিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রিজভী আহমেদ (ফরহাদ নামেও পরিচিত)। অভিযোগ অনুসারে, এই ব্যক্তিরা পূর্ব পরিকল্পনা করে সালমান শাহকে হত্যা করেছে এবং তাদের পরিচয় না জানা পলাতক সন্দেহভাজনও রয়েছে।

আসামিরা দেশত্যাগ না করতে পারে তা নিশ্চিত করতে রমনা থানা পুলিশ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সহায়তা চাওয়ার আবেদন করেছে। এই অনুরোধের ফলে তদন্তের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা আরোপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সালমান শাহ, যার আসল নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের একটি ফ্ল্যাটে মারা যান। মৃত্যুর পর প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে অপমৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে পরে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ২৪ জুলাই ১৯৯৭-এ হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

সেই সময় আদালত সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করে এবং ৩ নভেম্বর ১৯৯৭-এ সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে জানায় যে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। তবে কমরউদ্দিন চৌধুরী এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা দায়ের করেন, যার পর ১৯৯৭-এ মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়।

বিচার বিভাগীয় তদন্তের ফলাফল ১৯৯৭-এ প্রকাশের পর ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট হাকিম ইমদাদুল হক নতুন প্রতিবেদন দাখিল করেন, তবুও হত্যার অভিযোগ বাতিল হয়। বাবার মৃত্যুর পর নীলা চৌধুরী ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫-এ বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ জানান এবং ১১ জন সন্দেহভাজনের নাম তুলে ধরে দাবি করেন যে তারা তার পুত্রের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

পরবর্তীতে র‌্যাব (র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নেয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেয়। বর্তমানে আদালত দেরি হওয়া প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রদান করেছে, এবং রমনা থানা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি নির্দেশিত সময়সীমার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments