31.1 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন: শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আর রোডম্যাপ দরকার নেই

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন: শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আর রোডম্যাপ দরকার নেই

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনা শেষে জানিয়েছেন যে, শিক্ষকদের বর্তমান দাবি-দাওয়া নিয়ে আর রোডম্যাপে নামা প্রয়োজন নেই। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার এই বিষয়গুলোকে দ্রুত সমাধানের দিকে অগ্রসর হবে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত শিক্ষক-সদস্যরা বেতন বৃদ্ধি, সুবিধা, কর্মপরিবেশের উন্নতি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে বিস্তৃত মতবিনিময় করেন। সরকারী পক্ষ থেকে প্রতিটি বিষয়ের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি পুনরায় প্রকাশ করা হয়। এ ধরনের আলোচনা শিক্ষাক্ষেত্রের নীতি নির্ধারণে স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক বলে উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষকদের উপস্থাপিত দাবিগুলোকে সরকারী নীতি ও বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যালোচনা করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করেন, শিক্ষকদেরও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষকদের প্রত্যাশা করা হয় যে, তারা শুধুমাত্র সমস্যার দিক নয়, সমাধানমূলক প্রস্তাবও উপস্থাপন করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমস্যার দিক তুলে ধরা যথেষ্ট নয়; শিক্ষার উন্নয়নে শিক্ষকদের নিজস্ব দায়িত্ব পালন করা জরুরি। এজন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং পেশাগত প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে। আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি ও প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

ঈদ বোনাসের সম্পূর্ণ পরিমাণের দাবি সম্পর্কেও মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবটি পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, এই ধরণের আর্থিক সুবিধা শিক্ষকদের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বর্তমান বাজেটে ঈদ বোনাসের কোনো উল্লেখ না থাকায়, অতিরিক্ত আলোচনা প্রয়োজন বলে তিনি জোর দেন।

বাজেট সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে তিনি জানান, বর্তমান বছরের আর্থিক পরিকল্পনায় ঈদ বোনাসের জন্য কোনো ধারা অন্তর্ভুক্ত না থাকায়, সরকার সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করবে। বাজেট সংশোধনের সম্ভাবনা সম্পর্কে সরকার এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি, তবে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রের ৬৪ জেলায় কোনো সৎ ব্যক্তি নেই—এই অভিযোগের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তিনি ও তার সহকারীরা দুর্নীতি না করার শপথ নিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা দুর্নীতি করি না, করবো না এবং কাউকে করতেও দেব না।” এই শপথের ভিত্তিতে সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তন দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষকগণকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে বলা হয়েছে, যাতে নীতি প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সকল স্তরে তাদের মতামত প্রতিফলিত হয়।

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের প্রতিনিধিরা মন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে জানান, তারা সরকারী পদক্ষেপের বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এ ধরনের সমন্বয় শিক্ষাক্ষেত্রের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

প্র্যাকটিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে, শিক্ষকরা যদি নিয়মিত পেশাগত উন্নয়ন কর্মশালায় অংশ নেন এবং শিক্ষণ পদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করেন, তবে শিক্ষার মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবেন। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ এবং ফিডব্যাক সিস্টেম গড়ে তোলা শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে সহায়ক হবে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে চলমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ও শিক্ষক উভয়েরই সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন; এভাবেই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া দ্রুত সমাধান এবং শিক্ষার উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়বে বলে আশা করা যায়।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments