ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরোধে গ্রামবাসীর ওপর সশস্ত্র আক্রমণ ঘটে। রোববার সকালবেলায় চরলাপাং গ্রাম থেকে মেঘনা নদীর দিকে গমনকারী প্রতিবাদকারীরা গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু এবং অন্তত দশজনের আহত হওয়া জানানো হয়েছে।
হামলার ফলে নুরুল আমীন (৪০), রূপ মিয়া (৪৫), সফর মিয়া (৫০), সিয়াম হোসেন (১৬) ও ইব্রাহিম মিয়াকে (৩০) নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে রূপ মিয়া ও নুরুল আমীনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অধিকাংশ আহতকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হলেও, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় জরুরি সেবা প্রদান করা হয়। আহতদের মধ্যে গুলির আঘাত ছাড়া দৌড়াদৌড়িতে আহত হওয়া লোকজনও অন্তর্ভুক্ত।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মেঘনা নদীর ধারে দীর্ঘদিন ধরে অর্ধ শতাধিক ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধ বালু উত্তোলন করা হয়। এই কাজের ফলে চরলাপাংসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে নদীর তীর ভাঙ্গনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষকদের ফসলের ক্ষতি ঘটেছে।
গ্রামবাসী বহুবার প্রতিবাদ জানায়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে। যদিও কখনো কখনো প্রশাসন অভিযান চালায়, তবে কয়েকদিনের বন্ধের পর আবারো বালু উত্তোলন পুনরায় শুরু হয়। এছাড়া ড্রেজারের সঙ্গে থাকা অস্ত্রধারীরা গ্রামবাসীর জমি থেকে জোরপূর্বক ফসল কেটে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, “ফসলি জমির ধান কাটা ও বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ২০-৩০ জন সশস্ত্র গোষ্ঠী গ্রামবাসীর ওপর গুলিবিদ্ধ আক্রমণ চালায়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুলির ফলে পাঁচজনের মৃত্যু এবং পাঁচ-ছয়জনের দৌড়াদৌড়িতে আহত হওয়া ঘটেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াশ বসাক জানান, “হামলার খবর পেয়ে আমি ও থানার ওসি সহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। গোষ্ঠীকে গ্রেফতার করার জন্য অনুসন্ধান কাজ শুরু হয়েছে।” তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এম এ মান্নানও ঘটনাটির পর পুলিশকে “বালু উত্তোলনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে” নির্দেশ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এবার এই গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
পুলিশের অনুসন্ধান চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর পরিচয় ও তাদের সঙ্গে যুক্ত অপরাধের পরিধি নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য প্রাসঙ্গিক আইন প্রয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একত্রে কাজ করে গ্রামবাসীর নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার এবং নদীর পরিবেশ রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে অনধিকারিক বালু উত্তোলন রোধে কঠোর তদারকি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আইনগত ও প্রশাসনিক দায়িত্বশীলরা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যাতে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের শাসন বজায় রাখা যায়।



