31.1 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনে বাধা দিলেন গ্রামবাসী, গুলিবিদ্ধ পাঁচজন

মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনে বাধা দিলেন গ্রামবাসী, গুলিবিদ্ধ পাঁচজন

২২ ফেব্রুয়ারি রবিবারের সকালবেলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় চরলাপাং এলাকায় বালু উত্তোলনের বিরোধে গ্রামবাসীর ওপর গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ পাঁচজনের মধ্যে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, একজন কিশোর এবং এক যুবক অন্তর্ভুক্ত। ঘটনাস্থলটি মেঘনা নদীর তীরবর্তী, যেখানে স্থানীয় কৃষকরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করার চেষ্টা করছিলেন।

গুলিবিদ্ধদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে: নুরুল আমিন (বয়স ৪০), রউফ মিয়া (বয়স ৪৫), সফর মিয়া (বয়স ৫০), সিয়াম (বয়স ১৬) এবং ইব্রাহিম (বয়স ৩০)। সকলেই গুলির আঘাতে আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, পাঁচজনের শারীরিক অবস্থার বর্তমান অবস্থা স্থিতিশীল এবং প্রত্যেকের দেহে একাধিক গুলি লেগেছে। রোগীদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে এবং তারা চিকিৎসা সেবার অধীনে রয়েছে।

মেঘনা নদীর বালুমহাল ইজারা নিয়েছে সামিউল ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তবে এই সংস্থা অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে চরলাপাং এলাকার কাছাকাছি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি ও আশপাশের ভূমিতে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত বালু উত্তোলন নদীর প্রবাহের স্বাভাবিক গতি পরিবর্তন করে মাটি ক্ষয় এবং কৃষি জমির গুণগত মান হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করে।

রবিবারের সকালে ইজারাদারের কর্মীরা বালু উত্তোলন শুরু করার পর গ্রামবাসী বাধা দিতে গিয়ে উত্তেজনা বেড়ে যায়। উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কের পরিসর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিরোধের মাঝখানে নরসিংদি জেলার রায়পুরা উপজেলায় অবস্থিত মির্জাচর এলাকা থেকে স্পিডবোট ও নৌকা নিয়ে একদল ব্যক্তি গন্তব্যে পৌঁছায়। তারা দ্রুত গতি বজায় রেখে গ্রামবাসীদের দিকে গুলি চালায়।

গুলির ফলে পাঁচজনই গুলিবিদ্ধ হয়। গুলি চালানো দলটি দ্রুত সরে যায় এবং ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। গুলিবিদ্ধদের শিকল গুলি শারীরিক ক্ষতি সত্ত্বেও তারা শঙ্কামুক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়।

স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুলি চালানো ব্যক্তিদের সনাক্ত করার জন্য অনুসন্ধান চালু করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারভাইজার পিয়াস বসাক জানান, গুলি চালানো দলের পরিচয় বের করে গ্রেপ্তার করার কাজ চলছে।

নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং চিকিৎসা সেবা চলমান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রোগীদের শঙ্কামুক্ত রাখা এবং দ্রুত সঠিক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

পুলিশের মতে, গুলি চালানো দলটি অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা হতে পারে এবং তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করছে।

বর্তমানে তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বিবৃতি সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একত্রে কাজ করে গুলি চালানো অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments