ইউরোপের দিকে যাত্রা করা শরণার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে সাম্প্রতিক দু’টি ঘটনার ফলে আটজনের প্রাণহানি হয়েছে। লিবিয়ার ত্রিপোলির নিকটবর্তী উপকূলে পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আর গ্রীসের ক্রিট দ্বীপের পার্শ্ববর্তী জলে আর তিনজনের দেহ পাওয়া গেছে।
লিবিয়ার উপকূলীয় শহর কসর আল-আখইয়ারে স্থানীয় বাসিন্দারা সমুদ্রতটে একটি শিশুর দেহ ভাসতে দেখেন, তবে ঢেউয়ের তীব্রতায় তা আবার পানির নিচে গিয়ে যায়। পুলিশ কর্মকর্তার মতে, একই সময়ে পাঁচটি দেহ সমুদ্রের তীরে পাওয়া যায় এবং রেড ক্রসকে অবহিত করা হয়। দেহগুলো এখনও অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে, এবং আরও দেহের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
গ্রীসের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিটের উপকূলে একটি কাঠের নৌকা ডুবে যাওয়ার পর তিনটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্তত বিশজনের বেশি মানুষ বেঁচে গেছেন। বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের বেশিরভাগই মিশরীয় ও সুদানি নাগরিক, যার মধ্যে চারজন নাবালক।
গ্রীক কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জানান, চারটি টহল নৌকা, একটি বিমান এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের দুটি জাহাজের সমন্বয়ে অনুসন্ধান চালু রয়েছে। এই দলগুলো হারিয়ে যাওয়া যাত্রীদের সন্ধানে সমুদ্রের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি করছে।
প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ লিবিয়ার মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর অতিক্রম করে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। ২০১১ সালে গাদ্দাফি শাসনের পতনের পর থেকে লিবিয়া শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য প্রধান ট্রানজিট রুটে রূপান্তরিত হয়েছে, যা মানবিক সংকটের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত নিরাপত্তা নীতি অনুযায়ী, লিবিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে শরণার্থীদের সনাক্তকরণ ও রেসকিউ কার্যক্রমে সহায়তা করা হচ্ছে। ফ্রন্টেক্সের অংশগ্রহণ এই সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা সমুদ্রপথে ঘটিত দুর্ঘটনা কমাতে আন্তর্জাতিক সমন্বয়কে নির্দেশ করে।
একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, লিবিয়া-ইউরোপ রুটের ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় সমুদ্রপথে মানবিক বিপদ বাড়ছে এবং নিরাপদ, আইনগত অভিবাসন পথের প্রয়োজন তীব্রতর হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি শরণার্থীদের জন্য বিকল্প রুটের অভাব এবং গৃহস্থালি সংঘাতের তীব্রতা উভয়ই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইউনাইটেড নেশন শরণার্থী সংস্থা এবং মানবিক সংস্থাগুলি লিবিয়া ও গ্রীসে ত্বরিত রেসকিউ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলছে, সমুদ্রপথে ঘটিত মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত পদক্ষেপ অপরিহার্য।
এই দু’টি ঘটনা পুনরায় তুলে ধরেছে যে, ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথের মাধ্যমে ইউরোপে প্রবেশের প্রচেষ্টা এখনও প্রাণঘাতী ঝুঁকি বহন করে। সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই প্রবাহের মানবিক দিকটি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন বলে মনে হচ্ছে।



