গুরুদাসপুর জেলার পাকিস্তান সীমান্তের নিকটবর্তী একটি নিরাপত্তা চৌকিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুইজন পুলিশ কর্মী নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি রবিবার দোরাংলা থানার অধীনস্থ আদিয়ান গ্রামে ঘটেছে। মৃতদের মধ্যে ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব‑ইন্সপেক্টর অশোক কুমার ও হেড কনস্টেবল গুরনাম সিং, যাঁরা সীমান্তের কাছে একটি চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আদিয়ান গ্রামটি ভারত‑পাকিস্তান সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে নিয়মিত নিরাপত্তা চেকপোস্ট গড়ে তোলা হয়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, চেকপোস্টের কাছাকাছি হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে দুইজন পুলিশ কর্মী রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। গুলির প্রভাবের ফলে উভয়েরই প্রাণহানি ঘটে, ফলে তাদের দেহ চৌকির কাছেই উদ্ধার করা হয়।
মৃত্যুর পরপরই গুরুদাসপুরের সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) আদিত্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্তের দায়িত্ব নেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকাকে নিরাপত্তা গার্ডে ঘেরে রাখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি প্রাথমিক তদন্ত চালু করেন।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্র, গুলিবিদ্ধ গুলি ও কার্তুজের খোসা সহ অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে। সংগ্রহ করা নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে গুলির উৎস, ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরণ এবং গুলি চালানোর দিক নির্ণয়ের চেষ্টা করা হবে। প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে গুলি সীমান্তের পার্শ্ববর্তী কোনো অজানা দিক থেকে চালানো হয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট দিক ও অস্ত্রের প্রকার এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ একটি FIR (প্রথম তথ্য রিপোর্ট) দায়ের করেছে এবং মামলাটি সংশ্লিষ্ট আইনি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ফরেনসিক দল এবং পুলিশ তদন্তকারী দল একসাথে কাজ করবে, যাতে গুলির উৎস ও দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করা যায়। এছাড়া, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের জন্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
সীমান্তের নিকটবর্তী এই ধরনের ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে চলমান উত্তেজনা ও অনিয়ন্ত্রিত গুলিবিদ্ধের সম্ভাবনা বিবেচনা করে, উভয় দেশের নিরাপত্তা দপ্তর এই ঘটনার ওপর তীব্র নজর রাখছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুলিবিদ্ধের সম্ভাব্য উৎস অনুসন্ধানে সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
অধিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার শোনানিরিখ নির্ধারিত হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে, গুলিবিদ্ধ ঘটনার তদন্ত চলমান এবং সকল প্রমাণ সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় জনগণ এবং নিরাপত্তা কর্মীরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে দ্রুত রিপোর্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পেট্রোল ও নজরদারি ব্যবস্থা গৃহীত হবে বলে জানানো হয়েছে।



