31.1 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরংপুরের হারাগাছে এনসিপি সচিব আখতার হোসেনের প্রথম সফর ও বিরোধী দলের প্রতিবাদ

রংপুরের হারাগাছে এনসিপি সচিব আখতার হোসেনের প্রথম সফর ও বিরোধী দলের প্রতিবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রংপুরের হারাগাছ এলাকায় এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন প্রথমবারের মতো সফর করেন। তিনি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধী দলের (বিএনপি) স্থানীয় শাখা থেকে প্রতিবাদ ও হরতাল ঘোষণার মুখোমুখি হন। সফরের আগে তিনি ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট প্রকাশ করে নিজের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দায়িত্ব সম্পর্কে সতর্কতা জানিয়ে দেন।

আখতার হোসেনের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, যদি হারাগাছে তার নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ভরসা ও বিএনপির উচ্চপদস্থ নেতাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি হারাগাছের শ্রমিক ও ভোটারদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে এই এলাকার স্বার্থে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

পোস্টে তিনি বর্তমান সরকারের গঠনকে নিয়ে বিএনপি ও ভরসার কর্মকাণ্ডকে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নতুন সরকারের গঠন হওয়ার পর থেকে ভরসা ও তার সমর্থকরা বাড়িঘর ধ্বংস, লোক পেটানো, রক্তপাত, লুটপাট এবং সহিংসতা সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের দায়িত্ব নিচ্ছেন। এসব কাজের মূল উদ্দেশ্যকে তিনি ‘বিপক্ষের হরতাল’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

আখতার হোসেন ১২ই ডিসেম্বরের নির্বাচনী দিনের ঘটনাগুলোও তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার কর্মীরা ভোটার স্লিপ বিতরণ টেবিল ভেঙে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন, ভোটারদের ওপর হিংসা ও শারীরিক আক্রমণ হয়েছে এবং ভোট গড়া প্রচেষ্টার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এসব জালিয়াতি রোধে তার দলকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, শিলার মতো কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও তার দল শাপলা কলি জয়ী করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, শাপলা কলি জয়ের পেছনে তার দলের কৌশলগত পদক্ষেপ ও জালিয়াতি রোধের প্রচেষ্টা ছিল। এই সাফল্যকে তিনি তার দলের সংগঠনের শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন।

ভরসা ও এনসিপি দলের ভোটের পার্থক্যও তিনি প্রকাশ করেন। হারাগাছের মোট ৫৫,০০০ ভোটের মধ্যে ভরসা ২৭,০০০ ভোট পেয়েছেন, আর আখতার হোসেনের দল ৫,০০০ ভোট পেয়েছে, যা ২২,০০০ ভোটের পার্থক্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হারাগাছের প্রতিটি ভোট তার কাছে হাজার ভোটের সমান মূল্য বহন করে।

আখতার হোসেনের মতে, ভরসা দলের কিছু সদস্য ভোটারদের লক্ষ্যবস্তু করে হুমকি ও হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তিনি জানান, ভরসা বাহিনীর কিছু লোক বাড়িঘর ভেঙে ফেলে গিয়েছে এবং প্রশাসন এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানান।

হারাগাছের প্রতিবাদ শিবিরের প্রসঙ্গেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি লিখে জানান, ভরসা বাহিনীর লোকজন সরকারে থেকে বিরোধী দলের নেতার বিরুদ্ধে হরতাল ডেকেছে এবং দোকান বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছে। কিছু সময় পর হরতাল প্রত্যাহার করা হলেও, তারা এখনও প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে।

আখতার হোসেনের পোস্টে তিনি তার প্রথম সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, হারাগাছের ভোটারদের মর্যাদা রক্ষার জন্য তিনি এখানে আছেন এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা হিংসা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন। তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিএনপি স্থানীয় শাখা এই সফরকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। তারা বলেছে, আখতার হোসেনের উপস্থিতি তাদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। তারা প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে আহ্বান জানিয়েছে।

প্রশাসনিক দিক থেকে, স্থানীয় প্রশাসন এখনো কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। আখতার হোসেনের দল দাবি করে যে, ভরসা বাহিনীর হুমকি ও বাড়িঘর ধ্বংসের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তারা প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

এই ঘটনাগুলো রংপুরের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে হারাগাছের মত সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা, ভোটার অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় দৃষ্টিতে থাকবে। উভয় দলই নিজেদের সমর্থকদের মধ্যে আস্থা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments