ইসলামিক স্টেট (আইএস) শনি রাতের অডিও বার্তায় সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারাকে ‘প্রাণহীন পুতুল’ বলে অভিযুক্ত করে, এবং তাকে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মতোই একই ভাগ্য ভোগ করতে হবে বলে হুমকি জানায়।
বার্তাটি আত্মপ্রকাশকারী ব্যক্তি নিজেকে আবু হুজাইফা আল-আনসারি বলে পরিচয় দিয়েছেন এবং বিশ্বব্যাপী আইএস সমর্থকদের নতুন সন্ত্রাসী আক্রমণের আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে ইহুদি ও পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আল-আনসারি একই রেকর্ডে বর্তমান আইএস নেতা আবু হাফস আল-হুসেইন আল-কুরাইশির পক্ষ থেকে সংগঠনের যোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন; আল-কুরাইশি প্রায় তিন বছর আগে গোষ্ঠীর সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষিত হয়েছিলেন।
এই ঘোষণার আগে সিরিয়া, ইরাক, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আইএসের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলা ঘটেছে, যা গোষ্ঠীর সক্রিয় উপস্থিতি নির্দেশ করে।
গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কেন্দ্রীয় সিরিয়ায় একটি বোমা হামলায় তিনজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়; যুক্তরাষ্ট্র আইএসকে দায়ী করে সিরিয়ার সন্দেহভাজন ঘাঁটিগুলোর ওপর ব্যাপক বায়ু হামলা চালায়।
২০১৭ সালে ইরাকে এবং দুই বছর পরে সিরিয়ায় আইএসের ভূখণ্ডিক পরাজয়ের পরও গোষ্ঠীটি ‘স্লিপার সেল’ হিসেবে কাজ করে উভয় দেশে ধারাবাহিকভাবে ছোটখাটো হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিবের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বছর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, রক্ষা মন্ত্রী ও পররক্ষা মন্ত্রীর লক্ষ্য করে মোট পাঁচটি হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল, যেগুলো সবই ব্যর্থ হয়েছে; এই হুমকিগুলোর পেছনে আইএসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি আরও জানায় যে, আইএসের প্রচারমূলক বার্তা তীব্রতর হয়েছে, যেখানে সিরিয়ার বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘ইরান ও আসাদকে সরিয়ে মার্কিন প্রভাবাধীন একটি শাসন’ হিসেবে চিহ্নিত করে, এবং এটিকে ‘ক্রুসেডারদের দ্বারা শাসিত’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, এই নতুন আইএসের রেটোরিক্সের উত্থান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারির শাসনকালে ঘটছে, যিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন।
শাসন পরিবর্তনের পর আল-শারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করেন; গত বছর তিনি ওয়াশিংটন সফর করেন, যা সিরিয়ার স্বাধীনতার পর প্রথম রাষ্ট্রপ্রধানের ভ্রমণ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
পশ্চিমা ভ্রমণকে কিছু বিশ্লেষক ‘অর্থনৈতিক সহায়তা ও নিরাপত্তা গ্যারান্টি’ অর্জনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন, তবে সমালোচকরা সতর্ক করেন যে, এই ধরণের নীতি আইএসের মতো গোষ্ঠীর জন্য নতুন প্রেরণা হতে পারে, যারা নতুন শাসনকে ‘ক্রুসেডার’ হিসেবে চিহ্নিত করে।
আইএসের অডিও বার্তা, তাই, কেবল সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পুনরুজ্জীবন নয়, বরং সিরিয়ার সরকারকে সতর্ক করার একটি প্রচারমূলক কৌশল, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ককে ‘পশ্চিমা হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উপস্থাপন করে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইঙ্গিত দেন যে, আইএস‑সংযুক্ত হিংসা বৃদ্ধি হলে পূর্ব সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ইউএন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বে চলমান রাজনৈতিক সমঝোতার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।
সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যে তীব্র প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রও আমেরিকান নাগরিক বা স্বার্থের ওপর হুমকি দেখা দিলে আইএসের অবস্থানে অতিরিক্ত বায়ু হামলা চালানোর প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে।



