ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাবিনগর আপসোকে আজ সকালবেলা চারজন গ্রামবাসীর গায়ে গুলিবর্ষা ঘটায় পেলেট গন, যখন তারা অনুমোদিত সীমার বাইরে বালি উত্তোলন বন্ধ করার চেষ্টা করছিল। ঘটনাস্থল ছিল চর্লাপাং গ্রাম, যেখানে স্থানীয় মানুষগুলো বালি উত্তোলনকারীদের বিরোধে একত্রিত হয়েছিল। নাবিনগর থানা প্রধান রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ তথ্য পেয়ে দ্রুত 현장 পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের মতে, আহত চারজনের নাম আলিম মিয়া, নুরু মিয়া, সাফর মিয়া এবং নুরুল হক, যারা সবই চর্লাপাং গ্রাম, পশ্চিম ইউনিয়নের বাসিন্দা। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা স্থানীয় স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে দেওয়া হয়, পরে গুরুতর অবস্থার কারণে ঢাকার এক বিশেষ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামিউল ট্রেডার্সকে মেঘনা নদীর নির্দিষ্ট অংশে বালি উত্তোলনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামবাসীর অভিযোগে, কোম্পানিটি অনুমোদিত সীমানার বাইরে চর্লাপাং গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় বালি উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এই অননুমোদিত কাজের ফলে কাছাকাছি কৃষিজমি ও বাড়িগুলোতে ক্ষয়প্রবণতা বাড়ছে, যা জমি হারিয়ে যাওয়া ও স্থানচ্যুতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বালি উত্তোলন পুনরায় শুরু হলে গ্রামবাসীরা বাধা দেওয়ার জন্য সমাবেশ করে, ফলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সাক্ষীদের মতে, বালি উত্তোলনকারী দল নারসিংগী জেলার রায়পুরা উপজেলায় অবস্থিত মির্জাচার এলাকা থেকে কর্মী সংগ্রহ করে, তারা দ্রুত নৌকা ও স্পিডবোটের মাধ্যমে নদী পার হয়ে কাজের স্থানে পৌঁছায়।
সেই কর্মীরা পেলেট গনসহ অস্ত্রধারী ছিল এবং গ্রামবাসীদের উপর গুলি চালায়, যার ফলে উপরে উল্লেখিত চারজন আহত হয়। পেলেট গনের ব্যবহার স্থানীয় আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ, তাই এই ঘটনার আইনি দিকটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা স্থানীয় স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে করা হয়, তবে তাদের অবস্থার তীব্রতা বিবেচনা করে ঢাকা শহরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে রেফার করা হয়। চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রোগীদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক প্রভাব থাকতে পারে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে। রফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বালি উত্তোলন কোম্পানির লাইসেন্স ও কাজের সীমা যাচাই করা হবে এবং অননুমোদিত উত্তোলনের প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।
আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হবে এবং আদালতে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনও বালি উত্তোলনের নিয়মাবলী কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, নাবিনগর থানা ও জেলা প্রশাসন উভয়ই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাড়ি ও পায়ে চলা প্যাডওয়াক স্থাপন করা হয়েছে এবং বালি উত্তোলনকারীদের কাজের উপর তীব্র নজরদারি বজায় রাখা হবে।
সামগ্রিকভাবে, অননুমোদিত বালি উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতি, গ্রামবাসীর নিরাপত্তা হুমকি এবং আইনি লঙ্ঘনের সমন্বয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত চলাকালে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে।



