দিনাজপুরের কসবা আলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে গত শনিবার মাদরাসা মিলনায়তনে বার্ষিক সাধারণ সভা, হাফেজ ছাত্রদের পাগড়ি প্রদান এবং ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সভার প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, যিনি ইফতার‑পূর্বের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশের সূচনা মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিলপতি সহিদুর রহমান পাটোয়ারি মোহনের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে হয়। এরপর উপস্থিত সকলকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়, যেখানে মাদরাসা কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা সম্মানিত অতিথিকে স্নেহপূর্ণ স্বাগত জানায়।
সভায় হাফেজ ছাত্রদের পাগড়ি পরার অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন বগুড়া জামিল মাদরাসা‑এর নায়েবে তা’লিমাত আলহাজ্ব মাওলানা সহিদুল ইসলাম এই পাগড়ি প্রদান করেন, যা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় দায়িত্বের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত।
সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিতির পর মাদরাসা কমিটি ও এলাকার প্রতিনিধিরা তাকে ফুলের ঝুড়ি ও শুভেচ্ছা জানায়। অতিথি তার আগমনের পর মাদরাসা ও এতিমখানার কাজের সংক্ষিপ্ত বিবরণ শোনেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিলপতি সহিদুর রহমান পাটোয়ারি মোহন সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর নিজে কিছু কথা বলেন। তিনি মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষাগত ও সামাজিক অবদানের ওপর জোর দেন এবং সম্প্রদায়ের সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমানও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষামূলক কার্যক্রমকে প্রশংসা করে, স্থানীয় শিক্ষানীতি ও সামাজিক উন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাহবুব আহমেদও বিশেষ বক্তা হিসেবে মঞ্চে উঠে, মাদরাসার ইতিহাস, বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক দিক থেকে গড়ে তোলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পরিচালনা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি, প্রকৌশলী মো. নুর ইসলাম তুষার। তিনি গত বছরের শিক্ষার্থী সংখ্যা, আর্থিক অবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সম্প্রদায় সেবা কার্যক্রমের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে, মাদরাসা ও এতিমখানার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেন।
অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা-দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও সদর উপজেলার বিএনপি সভাপতি আস্করপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আবু বকর সিদ্দিক, মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান বাবু, এবং চেম্বারের পরিচালক মোস্তফা কামাল মিলন-ও তাদের মতামত ও সমর্থন প্রকাশ করেন। তারা মাদরাসা ও এতিমখানার সামাজিক ভূমিকা ও শিক্ষাগত অবদানের প্রশংসা করে, ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সমাবেশের শেষে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত সবাই একসাথে রোজা ভাঙেন এবং খাবার ভাগাভাগি করেন। এই সমাবেশটি মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে।
শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে মাদরাসা ও এতিমখানার ভূমিকা সম্পর্কে আপনার কী মতামত? যদি আপনার কাছে কোনো প্রস্তাব বা সহযোগিতার ধারণা থাকে, তবে মন্তব্যে শেয়ার করুন।



