রবিবার সকাল ৯টায় বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যিনি সরাসরি প্রকল্পের অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য আলোচনায় অংশ নেন।
সচিবালয়ের প্রধান হলের বড় কক্ষকে সভার জন্য সাজানো হয় এবং উপস্থিতির তালিকায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এবং বিদেশি মিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি প্রকল্পের কৌশলগত গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। দুজনের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সমর্থন ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এরপর বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়াহও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুজনের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য সৌদি আরবের সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে সরকার ইতিমধ্যে প্রাথমিক অনুমোদন প্রদান করেছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সব ধরণের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফার এই সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে, সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃতীয় টার্মিনালকে দেশের বাণিজ্যিক ও পর্যটন খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই টার্মিনাল সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের গ্লোবাল সংযোগ উন্নত হবে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-সৌদি আরব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং এই ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পে সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য পারস্পরিক লাভজনক হবে।
সভার শেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তৃতীয় টার্মিনালের নকশা, নির্মাণের সময়সূচি এবং তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পকে সময়মতো চালু করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, তৃতীয় টার্মিনাল সম্পন্ন হলে বর্তমান টার্মিনালগুলোর চাপ কমে যাবে এবং যাত্রীদের জন্য আরও আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত হবে। এছাড়া, নতুন টার্মিনাল আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর জন্য অতিরিক্ত গেট ও লাউঞ্জ সরবরাহ করবে।
প্রকল্পের আর্থিক দিক থেকে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালু করেছে। তদুপরি, সৌদি আরবের সম্ভাব্য বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে, যা তহবিলের শর্তাবলী ও রিটার্ন মডেল নির্ধারণে কাজ করবে।
সভার শেষে উপস্থিত সকল পক্ষ একমত হন যে তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এবং এর সফল বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এই ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পে আরও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়নে দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছে এবং তৃতীয় টার্মিনালকে দেশের গ্লোবাল সংযোগের মূল স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।



