32 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কার্যালয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এই কাজটি দীর্ঘ ১৯ মাসের পর প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক চিহ্ন বহনকারী কর্মকাণ্ডের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উত্তোলনের সময় কার্যালয়ের দরজা খুলে একটি দলীয় সদস্য জাতীয় পতাকা উঁচু করে তুলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পতাকা উত্তোলনের পর কিছু সময়ের জন্য কার্যালয়ের সামনে ছোট একটি সমাবেশ গড়ে ওঠে, যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান বা বক্তৃতা হয়নি।

উত্তোলন সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের জন্য উপজেলা সংসদ সদস্য হাসানুর রহমান হাসু (হাসানুর রহমান হাসুর) এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তবে সরাসরি তার কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে কল করা হলে তার স্ত্রী কাকলি খাতুন ফোন গ্রহণ করেন।

কাকলি খাতুন জানান, তার স্বামী বর্তমানে বাড়িতে নেই এবং তিনি জানেন না তিনি কোথায় আছেন। তবু তিনি নিশ্চিত করেন যে তার স্বামী দলীয় অফিসে গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি স্বামীর ওপর কোনো আইনি বা পার্টি শাস্তি হবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পশ্চিমবঙ্গের ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে পার্টি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। ফলে কাশিয়ানী উপজেলা কার্যালয়সহ বহু স্থানীয় পার্টি অফিস বন্ধ হয়ে ছিল এবং কোনো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে থেমে ছিল।

এই নিষেধাজ্ঞা ১৯ মাসেরও বেশি সময় ধরে বজায় ছিল। পার্টির স্থানীয় শাখা ও কর্মী সংস্থা গুলোকে সরকারি আদেশের ফলে তালাবদ্ধ করা হয়েছিল, ফলে কাশিয়ানীর আওয়ামী লীগ অফিসে কোনো সভা, প্রচার বা পতাকা উত্তোলনের মতো কার্যক্রম করা সম্ভব ছিল না।

কাশিয়ানী থানার ওসি মো. মাহফুজুর রহমান জানান, “পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো লঙ্ঘন ঘটলে তা অনুসন্ধান করা হবে।

পতাকা উত্তোলনকে কিছু বিশ্লেষকরা পার্টির পুনরায় সক্রিয়তার সূচক হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘ সময়ের নিষেধাজ্ঞা শেষে এই ধরনের প্রকাশ্য কাজ পার্টির ভিত্তি পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিতে পারে এবং স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগাতে পারে। তবে একই সঙ্গে নিরাপত্তা সংস্থার কাছ থেকে সতর্কতা বাড়তে পারে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। অফিসের ভিতরে বা বাইরে কোনো পার্টি কর্মকর্তার কাছ থেকে সরাসরি কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি, ফলে এই ঘটনার পেছনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা কঠিন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পতাকা উত্তোলনের পর কিছু সময়ের জন্য কার্যালয়ের আশেপাশে স্বেচ্ছাসেবকরা ছোট ছোট দল গঠন করে আলোচনায় লিপ্ত হয়। তবে কোনো বৃহৎ সমাবেশ বা র্যালি হয়নি, যা নির্দেশ করে যে পার্টি এখনও সতর্কতা বজায় রেখেছে।

প্রশাসনিক দিক থেকে, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখবে বলে আশা করা যায়। যদি কোনো লঙ্ঘন বা অশান্তি সৃষ্টি হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, কাশিয়ানীতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন পার্টির দীর্ঘ সময়ের নিষেধাজ্ঞা ভাঙার একটি চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা পার্টির রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তনকে সূচিত করতে পারে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments