মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ২২ ফেব্রুয়ারি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে তিনি লুইজিয়ানা রাজ্যের গভর্নর জেফ লেন্ড্রির সঙ্গে সমন্বয় করে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে একটি ভাসমান হাসপাতাল পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল দ্বীপে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না পাওয়া রোগীদের জরুরি সেবা প্রদান করা। পোস্টটি হোয়াইট হাউসে রিপাবলিকান গভর্নরদের জন্য আয়োজিত এক নৈশভোজের আগে প্রকাশিত হয়।
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছা বহু বছর আগে থেকে প্রকাশিত হয়েছে, যা ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় দেশগুলোর তীব্র বিরোধের মুখে পড়ে। পূর্বে তিনি দ্বীপের বিশাল খনিজ সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক চাপের ফলে তার সরাসরি ক্রয় প্রচেষ্টা কিছুটা পিছু হটেছে, ফলে মানবিক সহায়তা প্রকল্পের দিকে মনোযোগ পরিবর্তিত হয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণাটি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ডিনার অনুষ্ঠানের সময় করা হয়, যেখানে তিনি লেন্ড্রির পাশে বসে কথা বলেছিলেন। রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, দুজনের মধ্যে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ট্রাম্প তা জনসাধারণের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চেয়েছিলেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে ভাসমান হাসপাতালটি গ্রিনল্যান্ডের অসুস্থ জনগণের জন্য জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে এবং বর্তমানে তা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছিলেন যে লুইজিয়ানা গভর্নর জেফ লেন্ড্রির সহযোগিতায় গ্রিনল্যান্ডে একটি আধুনিক ভাসমান হাসপাতাল পাঠানো হবে, যা বর্তমানে যথাযথ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীদের সহায়তা করবে। তিনি এই উদ্যোগকে দ্বীপের স্বাস্থ্য অবস্থা উন্নত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং পরিকল্পনা শীঘ্রই কার্যকর হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
ট্রাম্পের পোস্টের পর হোয়াইট হাউস বা লেন্ড্রির অফিস থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন সরকারও এই বিষয়ের ওপর কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করেনি, এবং যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ও মন্তব্যে বিরত রয়েছে। ফলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময়সূচি ও আর্থিক কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য এখনও অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।
ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডেরিকও সাম্প্রতিককালে গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি সফর করে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। এটি তার এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সফর, যা দ্বীপের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছা ন্যাটো জোটের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছিল, যেখানে কিছু সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্যকে সমর্থন করে।
কয়েক মাসের উত্তেজনার পর গত মাসের শেষ দিকে গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্ক এবং মার্কিন সরকার পারস্পরিক আলোচনার জন্য একত্রিত হয়। আলোচনায় ভাসমান হাসপাতাল প্রকল্পসহ অন্যান্য সহযোগিতামূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়। তবে এই আলোচনার ফলাফল ও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও প্রকাশিত হয়নি, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ট্রাম্পের পোস্টের কয়েক ঘণ্টা আগে ডেনমার্কের জয়েন্ট আর্কটিক কমান্ড গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক থেকে প্রায় সাত নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত জলের সীমায় জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রয়োজনীয় এক ক্রুকে মার্কিন ডুবোজাহাজ থেকে উদ্ধার করার তথ্য জানায়। এই উদ্ধার কার্যক্রমের সঙ্গে ট্রাম্পের ভাসমান হাসপাতাল ঘোষণার কোনো সরাসরি সংযোগ আছে কিনা স্পষ্ট নয়, তবে উভয় ঘটনাই গ্রিনল্যান্ডে স্বাস্থ্যসেবা ঘাটতির প্রকাশ ঘটায়।
ভাসমান হাসপাতাল প্রকল্পের বাস্তবায়ন যদি হয়, তবে তা গ্রিনল্যান্ডের স্বাস্থ্য অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে এবং মার্কিন সরকারের মানবিক সহায়তার ইমেজকে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, ডেনমার্ক ও স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছ থেকে সম্ভাব্য বিরোধও প্রকল্পের অগ্রগতিকে প্রভাবিত করতে পারে। পরবর্তী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রকল্পের সময়সূচি ও আর্থিক সহায়তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



