অস্ট্রেলিয়া টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর দলটি কঠিন প্রশ্নের মুখে। কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড দলকে যথেষ্ট সক্ষম বলে দাবি করলেও, ফলাফল দেখায় পুনর্গঠন প্রয়োজন, বিশেষত ২০২৮ সালে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের আগে।
২০২১ সালের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া আবার শিরোপা জয়ের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল, তবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে দলটি গ্রুপে প্রথমবারের মতো ২০০৯ সালের পর বাদ পড়ে। এই ব্যর্থতা দেশের পুরনো ক্রিকেট আইকন এবং তীব্র মিডিয়ার তীব্র সমালোচনার দিকে নিয়ে যায়।
সাবেক দ্রুতগতি দিগগজ গ্লেন ম্যাকগ্রাথ টিমের দুর্বলতা তুলে ধরেন, বিশেষত প্যাট কামিন্স, জোশ হ্যাজলউড এবং মিচেল স্টার্কের অনুপস্থিতি দলকে নরম করে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার ঐ আভা এখন আর নেই, অন্য দলগুলো যখন আমাদের মুখোমুখি হয় তখন তা স্পষ্ট হয়ে যায়।”
বিশ্বকাপের আগে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পরাজয় দলকে সতর্ক সংকেত দিয়েছিল। প্রথম ম্যাচে ২২ রানের পার্থক্য, পরের দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৯০ ও ১১১ রানের বড় পরাজয়, যা টি২০ আন্তর্জাতিকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পার্থক্য। এই পরাজয়গুলো দলের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষয় করেছে।
প্রস্তুতি ম্যাচের সময় ক্যাপ্টেন মিচেল মার্শের মন্তব্য ছিল “আমাদের কোনো চাপ নেই”। তবে পরবর্তী গ্রুপ ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পরাজয় দলকে “বিধ্বস্ত দল” হিসেবে চিহ্নিত করে। এই ধারাবাহিক হারের ফলে অস্ট্রেলিয়ার টি২০ ক্যাম্পেইন দ্রুত ভেঙে পড়ে।
দল নির্বাচন নিয়ে তীব্র সমালোচনা তীব্র হয়েছে। সিলেকশন কমিটি গিয়র্গ বেইলি, অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড এবং টনি ডোডেমাইডের সিদ্ধান্তগুলো বিশেষভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। ক্যামেরন গ্রীন ও কপার কনলি মতো অপ্রদর্শনকারী অল-রাউন্ডারদের উপর অব্যাহত বিশ্বাসকে মিডিয়া সমালোচনা করেছে।
সিলেকশন কমিটির আরেকটি সিদ্ধান্ত ছিল স্টিভ স্মিথকে না খেলা এবং শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ফর্মে থাকা ম্যাট রেনশোকে বাদ দেওয়া, যদিও দল তখনো গেমে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রাখত। এই পদক্ষেপকে অনিয়মিত এবং কৌশলগত ত্রুটি হিসেবে দেখা হয়েছে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায়, অস্ট্রেলিয়া দলটি ব্যাট ও বল উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষের হাতে ধরা পড়ে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২২ রানের পরাজয়, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বড় পার্থক্য এবং শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হারের ফলে দলটি মোট তিনটি ম্যাচে হেরে।
ক্লাবের অভ্যন্তরে এবং মিডিয়ার মধ্যে তীব্র বিতর্কের মূল বিষয় হল নির্বাচন প্রক্রিয়া। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, কপার কনলি, ক্যামেরন গ্রীন এবং জোশ ইংলিসের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই খেলোয়াড়দের অবদান দলকে প্রত্যাশিত ফলাফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন পুনর্গঠন ও নতুন কৌশল গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ২০২৮ সালে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের আগে দলটি শক্তিশালী করতে নতুন খেলোয়াড় ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি বিবেচনা করা হবে।
এই ব্যর্থতা অস্ট্রেলিয়ার টি২০ ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে, যেখানে দলকে পুনরায় মূল্যায়ন করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুনরায় শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে।



