মার্কিন সরকারের ধারাবাহিক চাপের ফলে কিউবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও চিকিৎসকরা ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করছেন, যা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী সাম্প্রতিক সপ্তাহে ঘটেছে। এই পদক্ষেপটি কিউবা ও ভেনেজুয়েলা সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে মার্কিন প্রশাসনের কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
মার্কিন সরকারের এই নীতি, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কালে গৃহীত, ক্যারাকাস ও হাভানা মধ্যকার সম্পর্কের ফাটল বাড়ানোর লক্ষ্যে গৃহীত হয়। কিউবার নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চাপ বাড়িয়ে ভেনেজুয়েলা সরকারকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাওয়া হচ্ছে। ফলে কিউবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও চিকিৎসকরা দেশ ছেড়ে অন্যত্র গমন করছেন।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এখন দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় দেহরক্ষীদের ওপর নির্ভর করছেন। পূর্বে, তিনি এবং তার পূর্বসূরি হুগো চাভেজ যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের আগে কিউবার অভিজাত নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এই পরিবর্তনটি মার্কিন সরকারের চাপের সরাসরি ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৩ জানুয়ারি মার্কিন সরকারের পরিচালিত একটি আক্রমণে নিকোলা মাদুরোকে লক্ষ্য করে করা অপারেশনে কিউবার ৩২ সেনা ও দেহরক্ষী নিহত হয়। এই আক্রমণটি ভেনেজুয়েলা সরকারের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর বড় আঘাত হানতে সক্ষম হয়। ফলে কিউবার নিরাপত্তা কর্মীদের ভূমিকা ও উপস্থিতি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হয়।
২০০০-এর দশকের শেষের দিকে কিউবা ও ভেনেজুয়েলা সরকারের মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় কিউবার সৈন্য ও দেহরক্ষী ভেনেজুয়েলা ভূখণ্ডে মোতায়েন করা হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে কিউবার গোয়েন্দা সংস্থা ভেনেজুয়েলা সরকারের সামরিক বাহিনী ও শক্তিশালী কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ডিজিসিআইএম) এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করত। এই সহযোগিতা দুই দেশের নিরাপত্তা নীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলেজান্দ্রো ভেলাস্কো উল্লেখ করেন, হুগো চাভেজ সরকারের টিকে থাকার জন্য কিউবান প্রভাব অপরিহার্য ছিল। তিনি বলেন, কিউবার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহায়তা চাভেজের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এই বিশ্লেষণটি কিউবার দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা উপস্থিতির গুরুত্বকে তুলে ধরে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ডিজিসিআইএমের মধ্যে কিউবার কিছু উপদেষ্টা সম্প্রতি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি কিউবার নিরাপত্তা কর্মীদের ভূমিকা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। ফলে ভেনেজুয়েলা সরকারের নিরাপত্তা কাঠামোতে কিউবার প্রভাব কমে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিউবার কিছু চিকিৎসক ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা বিমান দ্বারা ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করে কিউবায় ফিরে গেছেন। এই গমন প্রক্রিয়া স্বেচ্ছায় বা বাহ্যিক চাপের ফলে হতে পারে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা স্পষ্ট নয়। ত্যাগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
ভেনেজুয়েলা সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, মার্কিন সরকারের চাপের ফলে দেলসি রদ্রিগেজের নির্দেশে কিউবার নিরাপত্তা কর্মীরা দেশ ছেড়ে গেছেন। তবে অন্যান্য সূত্রের মতে, এই গমন স্বেচ্ছা, বাধ্যতামূলক বা হাভানা কর্তৃক প্রত্যাহারিত হতে পারে। পূর্বে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কিউবার নিরাপত্তা বাহিনীর এই পরিবর্তন ভেনেজুয়েলা সরকারের নিরাপত্তা নীতিতে নতুন দিক নির্দেশ করে।



