ঢাকার জাত্রাবাড়ি এলাকায় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে একটি বাস এবং মানব হাউলার (লাগুনা) ধাক্কা খায়। ধাক্কা মারার ফলে দুইজনের মৃত্যু এবং আরেকজনের গুরুতর আঘাত হয়। ঘটনাস্থল ছিল মির হাজরিবাগ গুণ্টিগার এলাকায়।
মৃতদেহের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে আজিজুল ইসলাম, ৫৮ বছর এবং সাইফুল ইসলাম, ৫৫ বছর। উভয়ই মানব হাউলারের যাত্রী ছিলেন এবং গাঁদারিয়া এলাকার বাসিন্দা। আজিজুল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, আর সাইফুল মোটর পার্টসের দোকানে কাজ করতেন।
ধাক্কা ঘটার মুহূর্তে মানব হাউলার যাত্রী নামাতে চলেছিল। তখন বাহাদুর শাহ পারিবহন নামের বাসটি উচ্চ গতিতে চলছিল এবং হাউলারের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ফলে হাউলারের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং যাত্রীরা মাটিতে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজন গুরুতর আঘাতপ্রাপ্তকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। রেসকিউ কর্মীরা আহতদের দ্রুত সাড়া দিতে পারার ফলে জীবন রক্ষার সম্ভাবনা বাড়ে।
হাসপাতালের ডাক্তারগণ জানায়, দুজনের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। তৃতীয় আহত ব্যক্তি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তার পরিচয় ও আঘাতের মাত্রা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
জাত্রাবাড়ি থানা থেকে সাব-ইনস্পেক্টর সালাউদ্দিন ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্তে জানান, বাসটি উচ্চ গতিতে চলার ফলে মানব হাউলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে। বাসটি তৎক্ষণাৎ জব্দ করা হয় এবং চালককে গ্রেফতার করা হয়।
ঢিএমসিএইচ-এ পুলিশ ক্যাম্পের ইনস্পেক্টর মো. ফারুক জানান, মৃতদেহগুলো হসপিটালের মরগে রাখা হয়েছে অটোপ্সি করার জন্য। অটোপ্সি শেষে মৃতদেহের শেষ বিশ্লেষণ করা হবে এবং ফলাফল অনুসারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ঘটনাটির উপর একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান। পুলিশ দল বাসের গতি, চালকের আচরণ এবং মানব হাউলারের নিরাপত্তা মানদণ্ড যাচাই করছে।
ঢাকার রাস্তায় মানব হাউলার (লাগুনা) ব্যবহার দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতি, তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ সবসময়ই বিদ্যমান। এই ধরনের যানবাহন ও বাসের মেলবন্ধন দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার জন্য শোক প্রকাশ করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানায়। তারা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নিয়মের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
পুলিশের মতে, চালকের গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং মানব হাউলারের অনিয়মিত পরিচালনা দুটোই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে। তদন্তের পর ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, পরিবারগুলো শোকাহত এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে। তদন্ত চলাকালে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়বদ্ধ করা হবে।



