ইন্টার মিয়ামি ২০২৬ সালের এমএলএস মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলস এফসির সামনে ৩-০ হারে পরাজিত হয়েছে। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় এবং ইন্টার মিয়ামির ত্রয়ী তারকা লিওনেল মেসি পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন, তবে কোনো গোল বা সহায়তা করতে পারেননি।
মেসি ৭ ফেব্রুয়ারি ইকুয়েডরে প্রি-সিজন বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে আঘাত পেয়ে ছিলেন। চিকিৎসকের অনুমান অনুযায়ী তিনি কয়েক সপ্তাহের বিশ্রাম নিতে হতো, তবে ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি অনুশীলন মাঠে ফিরে আসেন, যা তার দ্রুত সেরে ওঠার ইঙ্গিত দেয়। এই অগ্রগতি ইন্টার মিয়ামির নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
প্রথম ম্যাচের আগে উভয় দলই লিগের শীর্ষ শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। ইন্টার মিয়ামি তার আক্রমণাত্মক দলে মেসি যুক্ত করে বড় প্রত্যাশা পোষণ করছিল, আর লস অ্যাঞ্জেলস এফসির আক্রমণিক চালিকাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা সন হিউং-মিনের হাতে ছিল। দুই তারকার মুখোমুখি হওয়া ম্যাচটি ভক্তদের জন্য আকর্ষণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়।
প্রথমার্ধে ৩৭তম মিনিটে সন ডেভিড মার্তিনেজের পাসে গোল করে দলকে নেতৃত্ব দেয়। এই গোলের পর ইন্টার মিয়ামি বলের দখল হারাতে থাকে এবং মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমস্যায় পড়ে। মেসি পুরো সময়ই মাঠে ছিলেন, তবে তিনি ধারাবাহিকভাবে বলের কাছাকাছি আসতে পারেননি এবং তার রিদমে অনুপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয়ার্ধে ৭৩তম মিনিটে ডেনিস বুয়োঙ্গা অতিরিক্ত সময়ে গোল করে স্কোর বাড়িয়ে দেয়। এরপর ৯৪তম মিনিটে নাথান ওরদাজও গোল করে লস অ্যাঞ্জেলসের ৩-০ পার্থক্যকে দৃঢ় করে। ইন্টার মিয়ামি এই মুহূর্তে আক্রমণাত্মক সুযোগ তৈরি করতে পারে না এবং শেষ পর্যন্ত কোনো গোল করতে পারে না।
মেসি পুরো ম্যাচে একাধিকবার বলের দিকে দৌড়ে যান, তবে শুটিং সুযোগ বা সহায়তা পেতে পারেননি। তার উপস্থিতি সত্ত্বেও দলটি বলের দখল হারায় এবং আক্রমণাত্মক রিদমে ঘাটতি থাকে, যা ফলস্বরূপ স্কোরের পার্থক্য বাড়িয়ে দেয়।
ম্যাচটি মেমোরিয়াল কলোসিয়াম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে প্রায় ৭৬,০০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন, যা এমএলএস ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যা রেকর্ড করে। ভক্তরা সনের পারফরম্যান্স এবং মেসির প্রথম প্রতিযোগিতামূলক উপস্থিতি দেখার জন্য সমাবেশিত হয়েছিল, যদিও শেষ মুহূর্তে মেসির গোল না হওয়ায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ পায়।
এই পরাজয় ইন্টার মিয়ামির নতুন মৌসুমের সূচনা চিহ্নিত করে এবং দলকে পরবর্তী ম্যাচে রণকৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে। মেসি প্রথম ম্যাচে পুরো সময় মাঠে ছিলেন, তবে তার প্রভাব সীমিত ছিল, যা দলের ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা এখনো অনিশ্চিত।



