ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে ১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন শ্যুটের জন্য প্রদত্ত অনুমোদন থেকে মোট ১.৭২ কোটি টাকা আয় করেছে। এই পরিমাণ পূর্বের সর্বোচ্চ ২০২২-২৩ আর্থিক বছরের প্রায় ১.৬৪ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। আয় মূলত ট্রেন, স্টেশন, রেলওয়ে ইয়ার্ড, কারশেড এবং কর্মশালার মতো বিভিন্ন রেলওয়ে সম্পত্তিতে শ্যুটের জন্য নেওয়া ফি থেকে এসেছে।
অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে রেলওয়ে একক-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স সিস্টেম চালু করেছে, যেখানে আবেদনকারী একক দফা দিয়ে সব প্রয়োজনীয় অনুমতি পেতে পারেন। এই সিস্টেমের পাশাপাশি ইন্ডিয়া সাইন হাব (India Cine Hub) এর মাধ্যমে আবেদন করা যায়, যা ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (NFDC) পরিচালনা করে। ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে একমাত্র জোন যা ICH-এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত, ফলে শিল্পের জন্য দ্রুত অনুমোদন নিশ্চিত হয়।
ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে চালু হওয়া ভ্যান্ডে ভারত এক্সপ্রেস, দেশের আধুনিক রেলওয়ে প্রকল্পের গর্বের প্রতীক, প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় দেখা যায় যখন পরিচালক শুজিত সিঙ্কর ২০২২ সালে ট্রেনের ভিতরে শ্যুটিং করেন। এই শ্যুটিং ভ্যান্ডে ভারতকে সিনেমা ও বিজ্ঞাপন জগতে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দেয় এবং রেলওয়ের আধুনিক চিত্রকে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরে।
সম্প্রতি রিলায়েন্স কনজিউমার প্রোডাক্টসের ‘ইন্ডিপেনডেন্স’ ব্র্যান্ডের একটি বিজ্ঞাপনও ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের সম্পত্তিতে শ্যুট করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনটি গত মে মাসে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয় এবং শুটিংয়ের পেছনের গল্পের ভিডিওটি জানুয়ারি ২০২৫-এ রেলওয়ে কর্তৃক প্রকাশিত হয়, যেখানে শুজিত সিঙ্করের উপস্থিতি স্পষ্ট।
উল্লেখযোগ্যভাবে, জন আব্রাহামের ‘মারিয়া আইপিএস’ এবং অয়ুষ্মান খুরানা‑শারভারীর ‘যে প্রেম মোল লিয়া’ উভয়ই ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের ট্র্যাক, স্টেশন এবং কর্মশালায় শ্যুট করা হচ্ছে। এই চলচ্চিত্রগুলো রেলওয়ের বাস্তব পরিবেশকে গল্পের পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করে, যা দর্শকদের জন্য আরও প্রামাণিক অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
মুম্বাই সেন্ট্রাল স্টেশনে ভ্যান্ডে ভারতকে কেন্দ্র করে একটি বিজ্ঞাপন শ্যুট করা হয়েছে, যা রেলওয়ের আধুনিক চিত্রকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। এই প্রচারমূলক কাজটি রেলওয়ের দ্রুতগামী ট্রেনকে জনপ্রিয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
রেলওয়ে শ্যুটের জন্য ট্রেনের পাশাপাশি রেলওয়ে ইয়ার্ড, কারশেড, প্রশাসনিক অফিস, ওয়ার্কশপ এবং অন্যান্য সুবিধা ব্যবহার করা যায়। এই বিস্তৃত সুযোগগুলো চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য বৈচিত্র্যময় পটভূমি সরবরাহ করে, যা গল্পের দৃশ্যপটকে সমৃদ্ধ করে।
রেকর্ড আয় রেলওয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সাফল্য, যা রেলওয়ের অব্যবহৃত সম্পদকে আয়োজনে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা দেখায়। একক-উইন্ডো সিস্টেমের সুবিধা এবং ICH-এর অন্তর্ভুক্তি শিল্পের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে, ফলে ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রকল্প রেলওয়ে সম্পত্তিতে শ্যুটের জন্য আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের এই উদ্যোগ কেবল আয় বাড়ায় না, বরং রেলওয়ের আধুনিক চিত্রকে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতে সহায়তা করে। রেলওয়ে ও বিনোদন শিল্পের এই পারস্পরিক সহযোগিতা দেশের সাংস্কৃতিক দৃশ্যপটকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



