জাতীয় সরঞ্জাম শনাক্তকরণ রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেমের প্রথম টেস্ট রানের জন্য রোববার সকাল দশটা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত সময় নির্ধারিত হয়েছে। এই পরীক্ষার সময় কিছু মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে বলে মোবাইল অপারেটরদের সমিতি AMTB সতর্কতা জানিয়েছে। টেস্ট রানের লক্ষ্য হল রেজিস্টার সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই করে দেশের মোবাইল বাজারে অবৈধ ডিভাইসের প্রবেশ রোধ করা।
AMTB উল্লেখ করেছে, টেস্ট চলাকালে ডিরেজিস্ট্রেশন ব্যতীত সীম ব্যবহার করলে কিছু গ্রাহকের হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। বিচ্ছিন্নতা কেবল দুই ঘণ্টার জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে এবং টেস্ট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুদ্ধার হবে। এই অস্থায়ী সমস্যার জন্য সমিতি পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
NEIR সিস্টেমের মূল নীতি হল হ্যান্ডসেটের সাথে নিবন্ধিত সিমকার্ডের মালিকানা মিলিয়ে চলা। কোনো ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত হ্যান্ডসেটে শুধুমাত্র সেই ব্যক্তির সিমই ব্যবহার করা যাবে; হ্যান্ডসেট বিক্রি বা অন্যের সিম ব্যবহার করতে হলে আগে ডিরেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই প্রক্রিয়া না করলে ডিভাইসটি নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হবে না।
সরকার ১ জানুয়ারি NEIR পদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে দেশের মোবাইল ডিভাইসের ট্রেসেবিলিটি বাড়াতে চেয়েছে। চালুর পরপরই BTRC (ব্রিকস টেলিকম রেজিস্ট্রেশন সেন্টার) অফিসে গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আক্রমণ চালায়, যার ফলে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনা সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা ও জরুরিতা তুলে ধরেছে।
টেস্টের আগে অবৈধ পথে আমদানি হওয়া বেশ কিছু ফোন মার্চ ১৫ পর্যন্ত বিক্রির অনুমতি পেয়েছিল। তবে মার্চের পরে NEIR সিস্টেম সম্পূর্ণ কার্যকর হবে এবং অননুমোদিত ডিভাইসগুলো নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবে না। ফলে গ্রে মার্কেটের ফোন বিক্রির সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে এবং বৈধ রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক হবে।
সরকারের মতে, অবৈধ পথে প্রবেশ করা নিম্নমানের, চুরি করা বা ব্যবহৃত ফোনগুলো বাজারে ঢুকে গ্রাহকদের প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কাজের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছিল। এসব ডিভাইসের সঠিক তথ্য না থাকায় আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ত। NEIR সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিটি ডিভাইসের উৎপত্তি ও মালিকানা রেকর্ড করা হবে, যা আইনগত পদক্ষেপকে সহজ করবে।
এই নীতির বিরোধে গ্রে মার্কেটের প্রতিনিধিত্বকারী এমবিসিবি (Mobile Business and Service Association) রাস্তায় প্রতিবাদ সংগঠিত করেছে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সিস্টেমের কঠোরতা ও ডিভাইসের বিক্রয় সীমাবদ্ধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তবে সরকার এই পদক্ষেপকে দেশের টেলিকম অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও ভোক্তা সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
প্রযুক্তি কলাম হিসেবে দেখা যায়, NEIR সিস্টেমের সফল বাস্তবায়ন মোবাইল ইকোসিস্টেমে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা আনবে। ডিভাইসের সঠিক রেজিস্ট্রেশন না থাকলে নেটওয়ার্কে প্রবেশের সুযোগ না পেয়ে গ্রাহকরা নিরাপদ ও মানসম্পন্ন পণ্য ব্যবহার করতে পারবে। ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা মোবাইল সেবা প্রদানকারীদের জন্য ডেটা নিরাপত্তা, সাইবার হুমকি মোকাবেলা এবং বাজারের ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, রোববারের টেস্ট রানের সময় সাময়িক সংযোগ বিচ্ছিন্নতা হতে পারে, তবে তা টেস্টের শেষের সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুদ্ধার হবে। NEIR সিস্টেমের লক্ষ্য অবৈধ ডিভাইসের প্রবেশ রোধ, ভোক্তা সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং টেলিকম শিল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। এই প্রক্রিয়ার সাফল্য দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ভিত্তি গড়ে তুলবে।



