29.5 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকপাকিস্তান আফগানিস্তানে সীমান্ত পারাপার হামলা চালিয়ে মিলিট্যান্ট ক্যাম্প ধ্বংসের দাবি

পাকিস্তান আফগানিস্তানে সীমান্ত পারাপার হামলা চালিয়ে মিলিট্যান্ট ক্যাম্প ধ্বংসের দাবি

পাকিস্তান সরকার ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখের একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, আফগানিস্তানের সীমান্তে অবস্থিত সাতটি সন্ত্রাসী ক্যাম্প ও গোপন ঘাঁটি লক্ষ্য করে সীমান্ত পারাপার বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই পদক্ষেপটি সাম্প্রতিক রমজান মাসে ঘটিত আত্মহত্যা বোমা হামলার পরিণতি হিসেবে নেওয়া হয়েছে, যেগুলোকে পাকিস্তানের দৃষ্টিতে আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান নিরাপত্তা সংস্থা “খওরিজ” নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবান গোষ্ঠীর ওপর দৃঢ় প্রমাণ পেয়েছে, যারা আফগান ভিত্তিক নেতৃত্ব ও হ্যান্ডলারদের নির্দেশে কাজ করছিল। তাই, পাকিস্তান “বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক নির্বাচনী লক্ষ্যবস্তু” হিসেবে এই সন্ত্রাসী ক্যাম্পগুলোকে চিহ্নিত করে আকাশ থেকে আক্রমণ চালায়।

হামলায় লক্ষ্যবস্তু হিসেবে পাকিস্তানি তালেবানের পাশাপাশি ইসলামী স্টেট খোরাসান প্রদেশ (ISKP) এর কয়েকটি শিবিরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের মতে, এই শিবিরগুলো সীমান্তের নিকটবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত এবং দীর্ঘদিন ধরে উভয় দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য হুমকি স্বরূপ।

আফগানিস্তানের তালেবান শাসনকে এই অভিযোগের কোনো মন্তব্যের জন্য তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করা যায়নি, এবং কাবুলের সরকারও পূর্বে এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তালেবান সরকার ধারাবাহিকভাবে দাবি করে যে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে পাকিস্তানের আক্রমণের জন্য ব্যবহার করা হয় না।

পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের পেছনে সাম্প্রতিক কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার ধারাবাহিকতা রয়েছে। রমজানের প্রথমার্ধে ইসলামিক শিয়া মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ, এবং উত্তরের বাঝৌর ও বান্নু জেলায় আত্মহত্যা বোমা হামলা, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়কে লক্ষ্য করে গাড়ি বোমা ধাক্কা দেয়া হয়। এই হামলায় পাঁচজন সশস্ত্র আক্রমণকারী নিহত এবং দুইজন সৈন্য প্রাণ হারায়।

সীমান্তে চলমান উত্তেজনা পূর্বে বহু বাণিজ্যিক গেট বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে পণ্য ও যাতায়াত ব্যাহত হয়েছে। অক্টোবর মাসে সংঘটিত রক্তাক্ত সংঘর্ষে শতাধিক প্রাণ হারানোর পর দু’পক্ষই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করলেও, পাকিস্তান এখনও তালেবানকে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে। তালেবান এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানায়।

সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় কাবুলের সরকার তিনজন পাকিস্তানি সৈন্যকে মুক্তি দিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেছে, তবে সীমান্তে পুনরায় গুলিবর্ষণ ও সশস্ত্র সংঘর্ষের ঝুঁকি রয়ে গেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি উভয় দেশ পরস্পরের নিরাপত্তা উদ্বেগকে স্বীকৃতি না দেয়, তবে সীমান্তে পুনরায় সামরিক অভিযান বাড়তে পারে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যিক শৃঙ্খলে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে। ভবিষ্যতে কোনো উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপের সম্ভাবনা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতি উভয় দেশের জন্যই সংবেদনশীল ও অস্থির বলে বিবেচিত হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments