আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অপ্রত্যাশিত আক্রমণ ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাতের দিকে সংঘটিত হয়েছে। তেহরিক‑ই‑তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও আইএসের গোপন ক্যাম্পগুলোকে লক্ষ্য করে গৃহীত এই অপারেশনটি সামরিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অপারেশনটি রাতের অন্ধকারে চালু হয় এবং টিটিপি ও আইএসের সাতটি গোপন শিবিরকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়। পাকিস্তানি তথ্য মন্ত্রী আতাউল্লাহ তাহার সামাজিক মাধ্যমে লিখে জানান, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান সম্পন্ন হয়েছে।
পাকিস্তান সরকার আক্রমণের সুনির্দিষ্ট স্থান বা লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে কোনো বিশদ প্রকাশ করেনি, ফলে আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক তথ্যের অভাবে অনুমানমূলক বিশ্লেষণ থেকে বিরত রয়েছেন। একই সময়ে আফগানিস্তান সরকারও এই ঘটনার ওপর তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য করেনি, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান জটিলতা নির্দেশ করে।
পূর্বে অক্টোবর ২০২২-এ পাকিস্তান বাহিনী আফগানিস্তানের গভীর অঞ্চলে সন্ত্রাসী শিবিরে আক্রমণ চালিয়ে একই ধরনের সীমান্তবিহীন সংঘাতের সূচনা করে থাকে। সেই সময়ের আক্রমণটি টিটিপি ও আইএসের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে করা হয় এবং তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সম্প্রতি, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজৌর জেলায় গাড়িবোমা হামলায় কমপক্ষে ১১ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এই হামলার দায়িত্ব টিটিপির ওপর আরোপ করে এবং তা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে সীমান্ত পারাপার আক্রমণ চালায়।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এবং এই ধরনের আক্রমণ অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অংশ। একই সঙ্গে তারা আফগানিস্তানে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয়গুলো এই সীমান্তবিহীন আক্রমণকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা উভয় দেশকে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে, তেহরিক‑ই‑তালেবান পাকিস্তানের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “পাকিস্তানের এই পদক্ষেপটি টিটিপির ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলায় একটি কৌশলগত প্রয়াস, তবে একই সঙ্গে এটি আফগান-পাকিস্তান সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক শক্তি গঠন ও শরণার্থী প্রবাহের ওপর এই আক্রমণ দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ভবিষ্যতে দু’দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে তীব্র আলোচনা চালু হবে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই বিষয়টি আলোচনার সূচিতে আসতে পারে। একই সঙ্গে, সীমান্তে গোপন গোয়েন্দা তথ্যের আদানপ্রদান বাড়িয়ে উভয় পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করা হবে বলে আশা করা যায়।
সারসংক্ষেপে, পাকিস্তান বাহিনীর এই অপ্রত্যাশিত আক্রমণ টিটিপি ও আইএসের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে গৃহীত একটি সামরিক পদক্ষেপ, যা আফগানিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি ও কূটনৈতিক চাপের মধ্যে, দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার পথ খোঁজা এখনই জরুরি, যাতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।



