কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া গ্রাম থেকে দুই বন্দি, ফরিদুল আলম ও মোহাম্মদ ইসমাঈল, ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার তাদের ৮০ বছর বয়সী মা মোস্তফা বেগমের মৃত্যুর পর পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জানাজায় উপস্থিত হন।
মা মোস্তফা বেগমের মৃত্যু বার্ধক্যজনিত কারণে ঘটেছে এবং নিকটাত্মীয়ের আবেদনপত্রের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ ১১ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত দুই ভাইকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেয়।
ব্রতের শেষের জোহরের নামাজের পর পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত শেষিক্রিয়া অনুষ্ঠানে তারা উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় তাদের হাতে হাতকড়া ছিল এবং উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দৃঢ়ভাবে তদারকি করছিলেন।
বড় ভাই ফরিদুল আলম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রাজনীতি করায় আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার। এলাকায় কারও ক্ষতি করিনি। মরহুমা মায়ের জন্য এবং অসুস্থ বাবা নুর আহমদের জন্য দোয়া করবেন। ইনশাআল্লাহ আপনার দোয়ায় আবার ফিরে আসব।” এই বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ ও পারিবারিক দায়িত্ব উভয়ই তুলে ধরেছেন।
ফরিদুল আলম ও মোহাম্মদ ইসমাঈল উভয়ই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা হিসেবে পরিচিত। পূর্বে এক মামলায় জামিন পেয়ে তারা আবার গ্রেপ্তার হন এবং গত আড়াই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন।
তাদের বিরুদ্ধে রামু থানায় একাধিক অপরাধমূলক মামলা দায়ের হয়েছে। যদিও কিছু মামলায় সাময়িকভাবে জামিন দেওয়া হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, নিকটাত্মীয়ের অনুরোধে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় এবং জানাজা শেষে বিকেলে আবার জেলা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে রামু থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
বন্দি অবস্থায় থাকা দুই ভাইয়ের বর্তমান অবস্থা হল, জানাজা শেষে তারা পুনরায় কারাগারে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির বিচার প্রক্রিয়া চলমান। আদালত থেকে কোনো চূড়ান্ত রায় না পাওয়া পর্যন্ত তারা জেলখানায় থাকবে।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট আদালত এখনো মামলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে কী রকম রায় দেওয়া হবে তা বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রামু থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতি এড়াতে পারিবারিক অনুরোধের ভিত্তিতে প্যারোলে মুক্তি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



