পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপলক্ষে এক্স-এ পোস্ট করে ভাষা সংরক্ষণের প্রতি তার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করেন। পোস্টটি সন্ধ্যায় প্রকাশিত হয় এবং তাতে তিনি ভাষা আক্রমণের বিরুদ্ধে সমবেতভাবে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। এই বার্তায় তিনি দেশের সকল ভাষা ও ভাষাভাষী জনগণকে সম্মান জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তার বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল ভাষা বৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরে সামাজিক সংহতি বজায় রাখা।
মহোদয়ী তার শুভেচ্ছা বার্তায় বাংলা ভাষার পাশাপাশি বিশ্বের সব ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দের বাংলা ভাষার গৌরবের পাশাপাশি অন্যান্য ভাষার মর্যাদা তুলে ধরেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গের সরকার হিন্দি, সাঁওতালি, কুরুখ, কুড়মালি, নেপালি, উর্দু, রাজবংশী, কামতাপুরী, পাঞ্জাবি ও তেলুগু সহ বহু ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করেছে।
সরকারের ভাষা নীতির অধীনে হিন্দি, সাঁওতালি, কুরুখ, কুড়মালি, নেপালি, উর্দু, রাজবংশী, কামতাপুরী, পাঞ্জাবি ও তেলুগু ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা ভাষাভাষীদের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করে। এই স্বীকৃতির পাশাপাশি, সরকার হিন্দি, রাজবংশী, কামতাপুরী ও সাঁওতালি ভাষার জন্য একাডেমি গঠন করেছে, যা ভাষা গবেষণা ও উন্নয়নে সহায়তা করবে। সাদরি ভাষার মানোন্নয়নের জন্যও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ঐ ভাষাভাষীদের শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে সহায়তা করবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজ্যের প্রতিটি ভাষাভাষী নাগরিককে তার মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। এই নীতি অনুসারে, সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাতৃভাষা ভিত্তিক পাঠ্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে শিশুরা তাদের নিজস্ব ভাষায় শিখতে পারে এবং ভাষা সংরক্ষণে অবদান রাখতে পারে।
বার্তার শেষ অংশে তিনি পুনরায় অঙ্গীকার করেন যে, কোনো ভাষার ওপর আক্রমণ হলে সমগ্র সমাজ একত্রে তার বিরোধিতা করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সব ভাষা সমানভাবে সম্মানিত এবং রক্ষিত হওয়া উচিত। এই অঙ্গীকারটি ভাষা সংরক্ষণে সরকারের দৃঢ়সঙ্কল্পের প্রতিফলন হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, ভাষা আন্দোলনের কিছু সক্রিয় সদস্য এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে সরকারের নীতির প্রশংসা করেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, ভাষা স্বীকৃতি ও শিক্ষার সুযোগের বিস্তার ভাষা হুমকির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দলগুলো থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, যা রাজনৈতিক আলোচনায় এই বিষয়ের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, ভাষা সংরক্ষণে এই ধরনের দৃঢ় অবস্থান মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হবে, বিশেষত আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে। ভাষা নীতি নিয়ে গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে সামাজিক সংহতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের রক্ষার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সরকার আরও কোন ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতি দেবে বা নতুন ভাষা একাডেমি গঠন করবে, তা রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
সারসংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষা আক্রমণের বিরুদ্ধে সমবেতভাবে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন এবং বহু ভাষার স্বীকৃতি ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সরকারী পদক্ষেপের বিবরণ দিয়েছেন। এই নীতি ভাষা সংরক্ষণে একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে এবং রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অনুভূত হবে।



