ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় নতুন একটি কঠোর বিকল্প উন্মোচিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইউএস পেন্টাগন সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একাধিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে, যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পুত্র মোজতাবা খামেনি অপসারণের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত।
এই বিকল্পের লক্ষ্য ইরানের ধর্মীয় শাসন কাঠামোকে ভেঙে ফেলা এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। তবে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা জানান, প্রেসিডেন্ট শেষ পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেবেন তা এখনও নির্ধারিত হয়নি এবং সব বিকল্পই বিবেচনার মধ্যে রয়েছে।
একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান যা তিনি রাজনৈতিকভাবে সফল হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন। তাই তিনি এমন শর্তের দিকে ঝুঁকছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমর্থন অর্জনে সহায়ক হবে।
ইরান সরকার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যদি ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে সীমিত পরিসরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।
কূটনৈতিক আলোচনার একাধিক ধাপ ব্যর্থ হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগের কারণ, কারণ কোনো সমঝোতা না হলে সংঘর্ষের সম্ভাবনা দ্রুত বাড়তে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, উভয় পক্ষ কিছু নির্দেশনামূলক নীতিতে একমত হয়েছে এবং ইরান আগামী দুই‑তিন দিনের মধ্যে একটি লিখিত প্রস্তাব দেবে। এই প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচি চালু রাখার কাঠামো এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তাবলি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রস্তাবের অংশ হিসেবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার (Iaea) সহযোগিতায় কাজ করতে ইচ্ছুক, যার মধ্যে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি যুক্ত আছেন।
আরাঘচি উল্লেখ করেন, প্রস্তাবে ইউনাইটেড নেশনসের পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি এবং সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা থাকতে পারে। এই ধাপগুলো ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে।
হোয়াইট হাউসের মতে, ইরানের প্রস্তাবের বিষয়বস্তু এখনও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা বাকি এবং তা প্রমাণ করতে হবে যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ক্ষতিকারক নয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রস্তাবের প্রতিটি ধাপের স্পষ্টতা এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।
মার্কিন সরকার জানাচ্ছে, লিখিত প্রস্তাব পাওয়ার পরই ওয়াশিংটন পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করবে এবং সম্ভাব্য চুক্তির শর্তাবলি নির্ধারণে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করবে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের টেবিলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও তার পুত্রের অপসারণের বিকল্প পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নীতি ও কূটনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ইরানের লিখিত প্রস্তাবের বিশদ বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়ে গেছে।



