23.4 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলারাজস্থানে ফুটবলে মেয়েদের স্বায়ত্তশাসন: নিসার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি

রাজস্থানে ফুটবলে মেয়েদের স্বায়ত্তশাসন: নিসার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি

১৪ বছর বয়সী নিসা বৈশ্নব এবং তার ১৮ বছর বয়সী বোন মুন্না গ্রীষ্মের এক গরম সন্ধ্যায় গ্রামের ফুটবল প্রশিক্ষণরত সময় পাঁচজন অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ককে তাদের ছবি তোলার চেষ্টা করতে দেখেন। পরে জানা যায়, সেই মানুষগুলো একই পরিবারের সদস্য, এবং তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের পুত্রের জন্য বধূ নির্বাচন করা।

নিসার মা, যিনি সেই মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন, সন্তানকে ঐ প্রস্তাবের দিকে মনোযোগী করার চেষ্টা করেন এবং নিসাকে সম্মানসূচকভাবে তাদের পা স্পর্শ করতে বলেন। নিসা ঐ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন, যা তার স্বতন্ত্রতা প্রকাশের প্রথম সংকেত হয়ে ওঠে।

ভারতে ১৮ বছরের নিচে মেয়ের এবং ২১ বছরের নিচে ছেলের বিবাহ আইনত নিষিদ্ধ, তবু বাস্তবে শিশুমৈথুন এখনও প্রচলিত। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ নারী আইনগত বয়সের আগেই বিবাহিত হয়েছেন। রাজস্থানে এই হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি, এবং গ্রামাঞ্চলে মেয়েরা প্রায়শই পিতামাতার ইচ্ছা অমান্য করতে পারে না।

নিসা ২০২২ সালে মুন্নার মাধ্যমে ফুটবলে পরিচিত হন। মুন্না এক বছর আগে ‘ফুটবল ফর ফ্রিডম’ নামে একটি রাজ্যব্যাপী অলাভজনক সংস্থার উদ্যোগে খেলাটি শিখেছিলেন, যার লক্ষ্য ক্রীড়া মাধ্যমে মেয়েদের জীবনমান উন্নত করা। সংস্থার সহায়তায় মুন্না গ্রামে ফুটবল প্রশিক্ষণ চালু করার জন্য অনুমতি সংগ্রহে নেতৃত্ব দেন এবং টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য ভ্রমণ অনুমোদন ও শর্টস পরিধানের অনুমতি পেতে লড়াই করেন।

গ্রামীয় নারীরা প্রথম কয়েক দিনই মেয়েদের শর্টস পরা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন, “এই মেয়েরা পা উন্মুক্ত করছে” বলে মন্তব্য করেন। মুন্না ও নিসা এই সমালোচনা উপেক্ষা করে নিজেদের পছন্দের পোশাক পরতে থাকেন, যা ঐ অঞ্চলে মহিলাদের মুখ ঢাকা রাখা ও লম্বা পোষাক পরার প্রচলনের বিপরীত।

নিসা দ্রুতই মাঠে দক্ষতা প্রদর্শন করেন এবং ২০২৪ সালের জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে রাজস্থানের প্রতিনিধিত্বকারী দলকে নির্বাচিত হন। একই সময়ে তিনি চুল ছোট করে কেটে ফেলেন, যা গ্রামের ঐতিহ্যগত চুলের দৈর্ঘ্য বজায় রাখার প্রত্যাশার বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট প্রতিবাদ।

আজ নিসা নিয়মিতভাবে রাজস্থানের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন এবং তার পারফরম্যান্স স্থানীয় তরুণ মেয়েদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফুটবলের মাধ্যমে তিনি কেবল শারীরিক দক্ষতা নয়, সামাজিক স্বায়ত্তশাসনের নতুন দৃষ্টিকোণও অর্জন করেছেন।

মুন্না এবং নিসার গল্প দেখায় কিভাবে ক্রীড়া একটি সরঞ্জাম হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা শিশুকালীন বধূপ্রস্তাবের মতো সামাজিক বাধা ভেঙে মেয়েদের আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তাদের প্রচেষ্টা রাজস্থানের অন্যান্য গ্রামেও অনুরূপ উদ্যোগের সূচনা করেছে।

ফুটবলে নিসার সাফল্য এবং তার পরিবারিক বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তির যাত্রা এখনো চলমান, এবং তিনি বলছেন যে মাঠে প্রতিটি ম্যাচ তার জন্য নতুন একটি সুযোগ, যেখানে তিনি নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারেন।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments