কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, জামায়াত-এ-ইসলামি মনোনীত প্রার্থী, ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় জেলা জামায়াত-এ-ইসলামি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
ইফতার সমাবেশে তিনি রমজান মাসে মাথায় টুপি না তোলার অনুরোধ করেন, কারণ এই কাজকে তিনি ইবাদত হিসেবে গণ্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রমজান শেষ হলেও পরবর্তী এগারো মাসে একই শিষ্টাচার ও আচরণ বজায় রাখা দরকার।
বক্তৃতার সময় তিনি নির্বাচন ফলাফলকে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি সাংবাদিকদেরকে ন্যায়কে ন্যায়, অন্যায়কে অন্যায় বলে প্রকাশ করতে এবং কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির প্রতি পক্ষপাত না রাখতে আহ্বান করেন।
সেই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকতাকে “মহান পেশা” হিসেবে মূল্যায়ন করেন এবং এই পেশাকে ইবাদত বলে গণ্য না করা কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি মিডিয়ার ভূমিকা জাতির সামনে তথ্য উপস্থাপন করা এবং সত্যের আলো ছড়িয়ে দেওয়া হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইফতার মাহফিলে জেলা জামায়াত-এ-ইসলামির সেক্রেটারি সূজা উদ্দিন জোয়ার্দার সভাপতিত্বে এবং শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকের সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উভয়ই সমাবেশের মূল আয়োজক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য, অধীনস্থ অধ্যক্ষ (অব.) খন্দকার এ.কে.এম. আলী মুহসিন উপস্থিত ছিলেন, যিনি সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।
সমাবেশে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা, জেলা জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতির সংখ্যা ও বৈচিত্র্য ইফতার অনুষ্ঠানের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
মুফতি আমির হামজার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, রমজান মাসে রাজনৈতিক নেতাদের সামাজিক ও নৈতিক বার্তা প্রদান দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি যে শিষ্টাচার বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, তা পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে ভোটারদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সাংবাদিকদের প্রতি তার আহ্বানও বিশেষ দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে মিডিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জোর দেন, যা ভবিষ্যতে তথ্যের নির্ভুলতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
এই ইফতার সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াত-এ-ইসলামি স্থানীয় স্তরে তার সমর্থন ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি, ধর্মীয় ও সামাজিক দিক থেকে জনমত গঠনেও একটি মঞ্চ তৈরি হয়েছে।
মুফতি আমির হামজা শেষ করে বলেন, রমজান শেষে যদি সমাজে একই শিষ্টাচার বজায় থাকে, তবে তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও নৈতিকতার উন্নতিতে সহায়ক হবে। তিনি সকলকে এই দৃষ্টিভঙ্গি মেনে চলার আহ্বান জানান।



