19.7 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেসবুকে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী পদে জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ...

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেসবুকে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী পদে জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ উল্লেখ

২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার, প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেসবুকের মাধ্যমে একটি মন্তব্য শেয়ার করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তারেক রহমান “পরিষ্কার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথেই হাঁটছেন”। ফারুকীর পোস্টটি দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ২০০৭-২০০৯ সালের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্লেষণ দীর্ঘদিনের পাঠক ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই পোস্টে তিনি তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান ও জিয়াউর রহমানের আদর্শের মধ্যে সাদৃশ্য তুলে ধরতে চেয়েছেন।

ফেসবুকের স্ট্যাটাসে ফারুকী প্রথমে উল্লেখ করেন যে তিনি বহুদিন ধরে শুনে আসছেন, তারেক রহমান আর জিয়াউর রহমানের লাইনে নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর, তিনি দেখেছেন যে তারেক এখন “পরিষ্কার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথেই হাঁটছেন”। এই মন্তব্যের পর তিনি জিয়াউর রহমানের পথ কী তা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।

“অনেক দিন ধরে শুনতেছিলাম, তারেক রহমান এখন আর জিয়াউর রহমানের লাইনে নাই। আমি তো দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর উনি পরিষ্কার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথেই হাঁটছেন।”

ফারুকী জিয়াউর রহমানের পথকে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেন, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়, আচার-অনুষ্ঠান গোপন না করে, বহু জাতি, বহু ধর্ম, বহু ভাষার মানুষের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রজাতন্ত্র গড়ে তোলা যায়। তিনি বলেন, এমন প্রজাতন্ত্রে মানুষ শহীদ মিনারে ফুল রাখতে পারে, ইচ্ছা করলে নামাজ পড়তে পারে, এবং স্বাধীনতার গান গাইতে পারে। একই সঙ্গে, তিনি উল্লেখ করেন যে এই প্রজাতন্ত্রে কেউ হেজেমনিক উদ্দেশ্য ছাড়া আত্মপরিচয় গড়ে তুলতে পারে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের গৌরবে গর্বিত হয়ে প্রয়োজনে রক্ষা করতে প্রস্তুত।

ফারুকী প্রশ্ন তোলেন, কে বা কী সংস্থা এই মোনাজাতকে আমাদের সমষ্টিগত স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে চায়। তিনি যুক্তি দেন যে এই ধরনের রাজনৈতিক চালনা বাংলাদেশের বহু সাংস্কৃতিক সংকটের মূল কারণ। তিনি উল্লেখ করেন যে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে দমন করার প্রচেষ্টা কেবলমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি ক্ষয় করার উদ্দেশ্যেও হতে পারে।

এই মন্তব্যের পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা ফারুকীর বক্তব্যকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ফারুকীর মন্তব্য বর্তমান সরকারের ধর্মনিরপেক্ষতা ও বহুমুখী জাতীয় পরিচয়ের নীতির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। অন্যদিকে, কিছু গোষ্ঠী এই মন্তব্যকে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা রক্ষার আহ্বান হিসেবে দেখেছে।

ফারুকীর পোস্টে উল্লেখিত “পরিষ্কার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথ” শব্দগুচ্ছটি রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন ব্যাখ্যা এনে দিয়েছে। তিনি যে ধারণা উপস্থাপন করেছেন, তা দেশের সাংস্কৃতিক নীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জাতীয় ঐক্যের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। এই দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে সরকারী নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক আইন প্রণয়নে।

সামাজিক মাধ্যমে এই পোস্টের প্রচার দ্রুত বাড়ে, এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সিভিল সোসাইটি সংগঠন থেকে মন্তব্যের ঢেউ তোলা হয়। যদিও ফারুকীর মন্তব্য সরাসরি কোনো নীতি পরিবর্তনের দাবি করে না, তবু এটি দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিতর্ককে তীব্র করে তুলেছে।

সারসংক্ষেপে, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ফেসবুকের মন্তব্য তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী পদে জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করার ইঙ্গিত দেয় এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরে। এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে, যা ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments