বির্মিংহাম সিটি নারী এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে চ্যাথামকে ৮-০ স্কোরে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে অগ্রসর হয়েছে। ম্যাচের প্রধান নায়ক ছিলেন ফরোয়ার্ড ওসেইন হুর্ত্রে, যিনি ২৬, ৫৯ ও ৬৮ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন। এফএ কাপের এই রাউন্ডে বির্মিংহাম দ্বিতীয় বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী এবং ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়ন, ফলে তাদের জয় প্রত্যাশিত ছিল।
প্রারম্ভিক সময়ে চ্যাথাম এক গোলের পিছনে থাকলেও প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তারা স্কোরের পার্থক্য কমিয়ে রাখতে সক্ষম হয়। তবে তাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং অর্ধ-প্রফেশনাল অবস্থান, যেখানে খেলোয়াড়রা শুধুমাত্র ভ্রমণ ব্যয় পায়, বির্মিংহামের পূর্ণকালীন পেশাদার দলে তুলনা করলে বড় পার্থক্য প্রকাশ পায়। এই বৈষম্য সত্ত্বেও চ্যাথাম প্রথমার্ধে কিছুটা প্রতিরোধ দেখাতে পারে।
হুর্ত্রের প্রথম গোলটি ২৬তম মিনিটে ঘটেছে, যখন তিনি চ্যাথামের ডিফেন্সের মধ্যে প্রবেশ করে শট মারেন। দ্বিতীয় গোলটি ৫৯তম মিনিটে একই খেলোয়াড়ের ক্রস-শটের মাধ্যমে আসে, যা গেটের পিছনে গিয়ে স্কোরকে ২-০ করে। তৃতীয় গোলটি ৬৮তম মিনিটে হুর্ত্রে আবারও পেনাল্টি এলাকার কাছাকাছি থেকে শট দিয়ে সম্পন্ন করেন, ফলে বির্মিংহামের গতি থেমে না।
হুর্ত্রের হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি অন্যান্য খেলোয়াড়ের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভিয়াট্রিকি সার্রি ৫৩তম মিনিটে গোল করে স্কোরকে ৩-০ করে তোলেন। লুইস ৬৫ এবং ৮৯তম মিনিটে দু’টি গোল করে দলের গ্যাপ বাড়িয়ে দেন। লি ৭০তম মিনিটে এবং লেইডহ্যামার ৭৬তম মিনিটে যথাক্রমে একেকটি গোল করে বির্মিংহামের ৮-০ বিজয়কে নিশ্চিত করেন।
চ্যাথামের গার্ডিয়ান সিমোনে এলিগন প্রথমার্ধে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেন। তিনি হুর্ত্রে এবং লি গিউম-মিনের শট থেকে গলিপোস্টের দিকে গিয়ে বলকে রক্ষা করেন, এবং সার্রির শটকে ক্রসবারে টিপে থামিয়ে দেন, যা স্কোরকে ২-০ রাখতে সাহায্য করে। তবে বির্মিংহামের আক্রমণাত্মক আধিপত্য শেষ পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে।
এই ফলাফল নারী ফুটবলের স্তরে শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেসের পার্থক্যকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। একই স্তরের অন্য একটি ম্যাচে চার্লটনের ১০-০ জয়, যেখানে তারা চতুর্থ বিভাগীয় সুইন্ডনকে পরাজিত করেছিল, তা এই পার্থক্যের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। পঞ্চম রাউন্ডে এখনো কোনো বড় আপসেট ঘটেনি, কারণ শীর্ষ স্তরের দলগুলো পেশাদার হয়ে গিয়েছে।
চ্যাথাম এই পরাজয়ের পরেও £১২৭,০০০ পুরস্কার পাবে, যা তাদের কাপ যাত্রার জন্য উল্লেখযোগ্য। দলটি তৃতীয় কোয়ালিফাইং রাউন্ডে বেকনসফিল্ডে শুরু করে, এরপর এএফসি উইম্বলডন এবং এক্সেটরের মতো উচ্চতর লিগের দলকে ঘরে বাইরে পরাজিত করে রাউন্ডে অগ্রসর হয়েছে। এই রাউন্ডে চ্যাথামের ভ্রমণকারী সমর্থকরা স্টেডিয়ামের অধিকাংশ দর্শক গঠন করে, হোস্ট দলের তুলনায় বেশি গায়ে গাইতে দেখা যায়।
বির্মিংহাম এখন কোয়ার্টার ফাইনালে পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যেখানে তারা উইমেন্স সুপার লিগের শীর্ষ দলে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখবে। চ্যাথাম যদিও এই রাউন্ডে পরাজিত হয়েছে, তবে তাদের কাপ যাত্রা এবং আর্থিক পুরস্কার ভবিষ্যতে ক্লাবের উন্নয়নে সহায়তা করবে।
এই ম্যাচের পরিসংখ্যান এবং গেমপ্লে বিশ্লেষণ দেখায় যে পেশাদার দলগুলোর গেম ম্যানেজমেন্ট, শারীরিক প্রস্তুতি এবং ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে স্পষ্ট সুবিধা রয়েছে। তবে চ্যাথামের গার্ডিয়ান এলিগনের পারফরম্যান্স এবং ভ্রমণকারী সমর্থকদের উত্সাহ দেখায় যে, সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও তারা উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করতে সক্ষম।



