বেরলিনের ৭৬তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জার্মান পরিচালক ইলকার চাটাকের ‘ইয়েলো লেটারস’ সেরা চলচ্চিত্রের গোল্ডেন বেয়ার পুরস্কার পেয়েছে। পুরস্কার বিতরণ ২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জুরি সদস্য হিসেবে বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা উইম ওয়েন্ডার্সও ছিলেন।
উৎসবের আগে চাটাকের একটি মন্তব্যের ফলে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা দেখা গিয়েছিল; তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন। সেই বিতর্কের পর জুরি একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাজনৈতিক থিমের চলচ্চিত্রগুলোকে সম্মান জানাতে সিদ্ধান্ত নেয়।
‘ইয়েলো লেটারস’ একটি নাটকীয় গল্প উপস্থাপন করে, যেখানে তুর্কি থিয়েটার শিল্পী দের্যা ও আজিজ রাজনৈতিক দমন থেকে চাকরি হারিয়ে ফেলেন। দুজনই তুরস্কের কর্তৃপক্ষের গৃহীত দমনমূলক নীতির শিকার হয়ে, তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা পান।
যদিও গল্পটি আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলের পটভূমিতে সাজানো, তবে পুরো চলচ্চিত্রটি জার্মানিতে শ্যুট করা হয়েছে। পরিচালক স্পষ্টভাবে এই বিষয়টি লুকিয়ে রাখেননি, যা তুরস্কে ঘটিত দমনকে ইউরোপের বড় শহরগুলোর সঙ্গে তুলনা করার ইঙ্গিত দেয়।
এই জয় চাটাককে জার্মানির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিচ্ছে; তিনি ২০০৪ সালে ফাতিহ আকিনের ‘হেড‑অন’ জয়ের পর জার্মান-জন্মের প্রথম পরিচালক হিসেবে গোল্ডেন বেয়ার অর্জন করেন। উভয়ই তুর্কি অভিবাসী পিতামাতার সন্তান, যা জার্মান চলচ্চিত্রের বহুমুখিতা তুলে ধরে।
ফাতিহ আকিনের ‘হেড‑অন’ তুরস্কের সামাজিক সংঘাতকে তীব্রভাবে চিত্রিত করেছিল এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে জার্মানির চলচ্চিত্র শিল্পের স্বীকৃতি বাড়িয়ে দিয়েছিল। চাটাকের জয় সেই ঐতিহ্যকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে অব্যাহত রাখে।
গোল্ডেন বেয়ার পাশাপাশি সিলভার বেয়ার সেরা অভিনয়ের জন্য জার্মান অভিনেত্রী সান্দ্রা হুল্লারকে প্রদান করা হয়। তিনি অস্ট্রিয়ান পরিচালক মার্কাস শ্লেইনজারের ‘রোজ’ ছবিতে ১৭শ শতাব্দীর গ্রামীণ জার্মানিতে একজন নারীকে পুরুষের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখিয়েছেন।
‘রোজ’ একটি সাদা-কালো চলচ্চিত্র, যেখানে হুল্লার একটি এমন চরিত্রে রূপান্তরিত হন, যিনি সামাজিক নিয়মের সীমা অতিক্রম করে নিজের পরিচয় রক্ষা করার চেষ্টা করেন। এই গল্পটি ইতিহাসে নথিভুক্ত শত শত অনুরূপ কেস থেকে অনুপ্রাণিত।
হুল্লার ইতিমধ্যে ‘অ্যানাটমি অফ এ ফল’ ছবিতে অস্কার নোমিনেশন অর্জন করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার অভিনয় দক্ষতা এবং বহুমুখী চরিত্রের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি তাকে ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র করে তুলেছে।
এখন হুল্লার হলিউডের দিকে পদক্ষেপ বাড়াচ্ছেন; তিনি টম ক্রুজের সঙ্গে আলেহান্দ্রো গ. ইনার্রুটির প্রত্যাশিত ড্রামেডি ‘ডিগার’ এবং রায়ান গস্লিংয়ের সঙ্গে ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলারের সায়েন্স ফিকশন ‘প্রজেক্ট হেল মেরি’ তে কাজ করবেন। এই প্রকল্পগুলো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে আরও বিস্তৃত করবে।
বেরলিন উৎসবের এই বছর রাজনৈতিক বিষয়বস্তুর ওপর জোর দেওয়া পুরস্কার বিতরণ, চলচ্চিত্র শিল্পের স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়িত্বের মেলবন্ধনকে তুলে ধরেছে। ‘ইয়েলো লেটারস’ ও ‘রোজ’ দুটোই দর্শকদেরকে বর্তমান ও অতীতের দমনমূলক শক্তির মুখোমুখি হতে আহ্বান জানায়, এবং শিল্পের মাধ্যমে পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রকাশ করে।



