ইন্ডি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রথম সংস্করণে, সজিদ নাদিয়াদওয়ালার প্রযোজিত চলচ্চিত্র ‘চাঁদু চ্যাম্পিয়ন’ নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পুরস্কার অনুষ্ঠানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটেগরিতে নামাঙ্কিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি ‘সেরা চলচ্চিত্র’, ‘সেরা পরিচালক’ এবং ‘সেরা পুরুষ অভিনেতা’ বিভাগে প্রতিযোগিতা করবে, যা তার শিল্পগত মান ও বৈশ্বিক আকর্ষণকে তুলে ধরেছে।
সজিদ নাদিয়াদওয়ালা, যিনি বোলিভুডের অন্যতম বিশাল নাম, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের গর্বকে বিশ্ব মঞ্চে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। তার প্রযোজনা সংস্থা বহুবার বাণিজ্যিক ও সমালোচনামূলক সাফল্য অর্জন করেছে, আর ‘চাঁদু চ্যাম্পিয়ন’ তার সাম্প্রতিক অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ। নাদিয়াদওয়ালার লক্ষ্য হল এমন কন্টেন্ট তৈরি করা যা দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করে এবং সামাজিক বার্তা বহন করে।
চলচ্চিত্রের দায়িত্বে আছেন অভিজ্ঞ পরিচালক কবির খান, যিনি তার সূক্ষ্ম বর্ণনা শৈলীর জন্য পরিচিত। খান চলচ্চিত্রের প্রতিটি দৃশ্যকে সতর্কতার সঙ্গে গড়ে তুলেছেন, যাতে মুরলিকান্ত পেটকারের জীবনের উত্থান-পতন যথাযথভাবে ফুটে ওঠে। তার পরিচালনায় গল্পের আবেগময় মুহূর্তগুলোকে দৃশ্যমান করে তোলার পাশাপাশি, ক্রীড়া জগতের চ্যালেঞ্জগুলোকে বাস্তবিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
‘চাঁদু চ্যাম্পিয়ন’ মুরলিকান্ত পেটকারের অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা অনুসরণ করে, যিনি ভারতের প্রথম প্যারালিম্পিক স্বর্ণপদকধারী। ১৯৬৪ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত প্যারালিম্পিকে তিনি স্বর্ণপদক জয় করে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেন। তার সংগ্রাম, দৃঢ়সংকল্প এবং অদম্য আত্মা চলচ্চিত্রের মূল থিম হিসেবে কাজ করেছে, যা দর্শকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সাহসের সঞ্চার ঘটায়।
সম্প্রতি পেটকারকে অর্জুনা পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে, যা তার ক্রীড়া সাফল্য ও সমাজসেবার স্বীকৃতি। পুরস্কার গ্রহণের পর তিনি চলচ্চিত্র টিমের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, বিশেষ করে নাদিয়াদওয়ালা ও পরিচালকের প্রতি, যাঁরা তার জীবনের গল্পকে বড় পর্দায় স্থায়ী করে তুলেছেন। পেটকারের এই কৃতজ্ঞতা চলচ্চিত্রের সামাজিক প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
নিউ ইয়র্কের এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নোমিনেশন পাওয়া ‘চাঁদু চ্যাম্পিয়ন’ শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্রের সাফল্য নয়, বরং ভারতীয় গল্প বলার শিল্পের বৈশ্বিক স্বীকৃতির সূচক। ইন্ডি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই স্বীকৃতি দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, যা ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় ও মানসম্পন্ন কন্টেন্টের উৎপাদনে উৎসাহ দেবে। নাদিয়াদওয়ালার এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমা আন্তর্জাতিক পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা আরও দৃঢ় হয়েছে।
চলচ্চিত্রের প্রকাশনা ও প্রদর্শনী সময়সূচি শীঘ্রই জানানো হবে, তাই সিনেমা প্রেমিকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অপেক্ষার বিষয়। যারা অনুপ্রেরণামূলক ক্রীড়া গল্পে আগ্রহী, তারা ‘চাঁদু চ্যাম্পিয়ন’ দেখার মাধ্যমে মুরলিকান্ত পেটকারের জীবনের উজ্জ্বল দিকগুলোকে সরাসরি অনুভব করতে পারবেন। এছাড়া, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসের গৌরবময় মুহূর্তগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।



