21.8 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধহজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গ্যাসচালিত এয়ারগান নিয়ে আসা নূর...

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গ্যাসচালিত এয়ারগান নিয়ে আসা নূর হোসেনকে আটক

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরে আসা নূর হোসেন (ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় বাসিন্দা) গত শুক্রবার রাতের ফ্লাইটে অবতরণের পর তার লাগেজে গ্যাসচালিত আধুনিক এয়ারগান এবং অন্যান্য শুল্কযোগ্য পণ্য পাওয়া যায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এই সামগ্রীগুলো দেশে আনার অভিযোগে তাকে বিমানবন্দর থানা‑তে হস্তান্তর করা হয়।

নূর হোসেন শ্রীলঙ্কা থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন রাত ৯টার দিকে। তার চেক‑ইন করা লাগেজে কোনো অস্বাভাবিক চিহ্ন না থাকলেও গোয়েন্দা বিভাগের নজরদারিতে সন্দেহজনক তথ্য উঠে আসে, ফলে নিরাপত্তা কর্মীরা তার ব্যাগে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় গ্যাসচালিত এয়ারগান এবং শুল্কযোগ্য সামগ্রী পাওয়া যায়, যা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগে কাজ করা কর্মকর্তারা তৎক্ষণাৎ নূর হোসেনকে আটক করে, পরে তাকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানা‑তে হস্তান্তর করে। থানা‑এর ওসি মোবারক হোসেন জানান, গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সন্দেহভাজন শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আধুনিক গ্যাসচালিত এয়ারগান এবং অন্যান্য পণ্য দেশে নিয়ে এসেছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নূর হোসেন স্বীকার করেন, তিনি ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এই সামগ্রীগুলো বহন করছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, এ সব পণ্য তার নিজস্ব না, বরং অন্য কোনো ব্যক্তি থেকে হস্তান্তর পেয়েছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে শুল্ক বিভাগ এবং থানা‑এর তদন্তকারী দল বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে।

নূর হোসেনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী শুল্ক ফাঁকি এবং অবৈধ সামগ্রী আনার অপরাধে কঠোর শাস্তি নির্ধারিত আছে। বর্তমানে তাকে হেজমন্ত আদালতে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং শিকায়ত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বিমানবন্দর থানা‑এর ওসি উল্লেখ করেন, তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রমাণ সংগ্রহ এবং সাক্ষ্য গ্রহণের কাজ চলছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা মামলার সাথে যুক্ত সকল নথি এবং প্রমাণাদি আদালতে উপস্থাপন করবেন। এছাড়া, নূর হোসেনের বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় অবস্থিত, যেখানে তার পরিবার ও পরিচিতরা বসবাস করে।

শুল্ক ফাঁকি এবং অবৈধ অস্ত্র আনা দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে। এ ধরনের ঘটনা রোধে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শুল্ক বিভাগের তদারকি বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।

অপরাধের পরিণতি এবং আইনি প্রক্রিয়ার দিক থেকে নূর হোসেনের মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে চলবে, যেখানে শুল্ক ফাঁকি এবং অবৈধ অস্ত্র আনার জন্য শাস্তি নির্ধারিত। আদালতে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপিত হবে এবং তার রক্ষা করার অধিকারও নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি এবং অবৈধ সামগ্রী আনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে আসা অবৈধ পণ্যগুলোর উপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments