নাসা কর্তৃক পরিকল্পিত আর্টেমিস‑২ মিশনের মার্চ মাসের প্রারম্ভিক লঞ্চ তারিখটি হিলিয়াম প্রবাহের সমস্যার কারণে পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এই মিশনটি পাঁচ দশক পর প্রথমবারের মতো মানবকে চাঁদের পেছনের দিকে পাঠাবে এবং মোট দশ দিনের একটি যাত্রা হবে। নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় হিলিয়াম সরবরাহে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে, যা লঞ্চের সময়সূচি প্রভাবিত করতে পারে।
মঙ্গলবারের ঘোষণায় নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস‑২ মিশনটি ৬ মার্চের দিকে লক্ষ্য করে ছিল, তবে হিলিয়াম প্রবাহে বাধা দেখা যাওয়ায় মার্চের লঞ্চ উইন্ডোতে পরিবর্তন আসবে। এই মিশনের দায়িত্বে আছেন নাসার প্রধান কর্মকর্তা জ্যারেড আইজ্যাকম্যান, যিনি পরের দিনই সমস্যাটির প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট মন্তব্য করেন।
হিলিয়াম রকেটের জ্বালানি ট্যাঙ্ককে চাপ দেওয়া এবং ইঞ্জিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই হিলিয়াম সরবরাহে কোনো ব্যাঘাতই রোকার নিরাপদ লঞ্চের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। নাসা এই বিষয়টি “প্রায় নিশ্চিতভাবে মার্চের লঞ্চ উইন্ডোকে প্রভাবিত করবে” বলে উল্লেখ করেছে।
গত বৃহস্পতিবার, কের্নি স্পেস সেন্টারে রকেটের ট্যাঙ্কে প্রায় ৭,৩০,০০০ গ্যালন জ্বালানি ভর্তি করা হয়, যা ৫০ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হয়। প্রথমে কোনো ত্রুটি সনাক্ত না হওয়ায় টেস্টটি সফল বলে ধরা হয়। তবে পরের রাতে, ইঞ্জিনিয়াররা হিলিয়াম প্রবাহে অপ্রত্যাশিত বাধা লক্ষ্য করেন।
এই বাধা হিলিয়ামকে ট্যাঙ্কে সঠিক চাপ বজায় রাখতে বাধা দেয় এবং রকেটের সিস্টেমকে যথাযথভাবে শীতল করতে ব্যর্থ হতে পারে। নাসা এই সমস্যাটিকে “গুরুতর প্রযুক্তিগত ত্রুটি” হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তা দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের মতে, হিলিয়াম প্রবাহের এই ব্যাঘাত লঞ্চের পরিকল্পিত সময়সূচিকে “প্রায় নিশ্চিতভাবে” প্রভাবিত করবে। তিনি জানিয়েছেন, এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মার্চের প্রারম্ভিক লঞ্চের সম্ভাবনা কমে যাবে।
লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল‑থম্পসনও টেস্টের পর দলের কাজের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবারের সিমুলেশনটি “উড়ানের অধিকার অর্জনের বড় একটি পদক্ষেপ” ছিল এবং দলের প্রতি গর্ব প্রকাশ করেন। তার মন্তব্যে দলকে “অত্যন্ত গর্বিত” বলা হয়েছে।
এই সিমুলেশনটি ছিল দ্বিতীয় প্রচেষ্টা, কারণ পূর্বে ফিল্টার ও সিলের সমস্যার কারণে হাইড্রোজেন লিকের সমস্যা দেখা গিয়েছিল। সেই সমস্যাগুলি সমাধান করার পরই এই টেস্টটি সম্পন্ন করা হয়।
মিশনের ক্রুতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন মহাকাশচারী—রিড উইসম্যান, ভিক্টর গ্লোভার এবং ক্রিস্টিনা কোচ—এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন অন্তর্ভুক্ত। তারা একসাথে দশ দিনের মিশনে চাঁদের পেছনের দিকে যাত্রা করবেন এবং ফিরে আসবেন।
এই যাত্রা মানবজাতির জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দূরবর্তী মহাকাশ মিশন হিসেবে বিবেচিত হবে। ক্রু সদস্যরা চাঁদের পৃষ্ঠের নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোতে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।
আর্টেমিস‑২ সফল হলে, আর্টেমিস‑৩ মিশনের জন্য ভিত্তি স্থাপিত হবে, যেখানে প্রথমবারের মতো মানব চাঁদে পা রাখবে। নাসা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়, যাতে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদী মানব উপস্থিতি সম্ভব হয়।
বর্তমানে নাসা টিম হিলিয়াম সিস্টেমের সমস্যার সমাধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন লঞ্চ তারিখ নির্ধারণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও লঞ্চের সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে, নাসা নিশ্চিত করেছে যে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত মিশন চালু করা হবে না।
পাঠকগণকে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে, নাসার প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অব্যাহত প্রচেষ্টার প্রতি আস্থা রাখতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আপনি কি মনে করেন, ভবিষ্যতে এমন প্রযুক্তিগত বাধা কীভাবে দ্রুত সমাধান করা যায়?



