বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ফারুক আহমেদ ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শাকিব আল হাসানের সম্ভাব্য দেশে ফিরে আসার বিষয়টি আলোচনা করেন। তিনি জানালেন, শাকিবের বিষয়টি এখনো চলমান এবং তিনি সভাপতি হওয়ার পর থেকে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
ফারুকের মতে, শাকিবের ফিটনেস এবং পেশাদারিত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সর্বদা চান তিনি দেশের হয়ে খেলবেন। তিনি জোর দিয়ে বললেন, শাকিব দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং ব্র্যান্ড, যার উপস্থিতি দলের মান বৃদ্ধি করে।
বাছাই প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ফারুক উল্লেখ করেন, শাকিবের ফিটনেসের ভিত্তিতে তাকে দলভুক্ত করা হবে এবং এই সিদ্ধান্তের জন্য বোর্ডের দায়িত্ব। তবে শাকিবের আইনি বিষয়গুলো সরকার পর্যবেক্ষণ করছে, যা এখনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি। তিনি আশাবাদী সুরে বললেন, শীঘ্রই ভক্তদের জন্য একটি সুখবর আসবে।
একই সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সম্প্রতি ঘোষিত কেন্দ্রীয় চুক্তি নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন চুক্তিতে সর্বোচ্চ “এ প্লাস” ক্যাটাগরিতে কোনো খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ক্রিকেট জগতে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা উস্কে দিয়েছে।
এই পদক্ষেপের ফলে শীর্ষ পারফরমারদের মূল্যায়ন ও বেতন কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফারুক ব্যাখ্যা করেন, পূর্বে শাকিব, তামিম এবং মুশফিকুর রহমান সব ফরম্যাটে নিয়মিত খেলতেন এবং তাদের অবদান অপরিসীম ছিল। বর্তমানে কোনো খেলোয়াড় সব ফরম্যাটে অপরিহার্য বলে বলা কঠিন, তাই অপারেশনস কমিটি “এ প্লাস” ক্যাটাগরি বাদ দিয়ে “এ” গ্রেড দিয়ে শুরু করেছে।
ফারুকের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বোর্ডের নতুন চুক্তি নীতি বর্তমান দলের গঠন ও পারফরম্যান্সের বাস্তবতা প্রতিফলিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, “এ” গ্রেডের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণ করা হবে, যা স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে।
শাকিবের প্রত্যাবর্তন ও চুক্তি নীতির এই দু’টি বিষয় একসাথে ক্রিকেট সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ফারুকের মতে, শাকিবের ফিটনেস পুনরায় যাচাই হলে তিনি দ্রুত দলের অংশ হতে পারেন, তবে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই নীতি পরিবর্তন ও শাকিবের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন উভয়ই দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফারুকের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বোর্ডের লক্ষ্য হল খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ন্যায্য বেতন কাঠামো তৈরি করা এবং শাকিবের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে পুনরায় দলে যুক্ত করা।
ভক্তদের জন্য শীঘ্রই একটি ইতিবাচক সংবাদ আসার প্রত্যাশা বাড়িয়ে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই পদক্ষেপগুলো দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



