21.8 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাপ্রকাশক ঐক্য, অমর একুশে বইমেলায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানাল

প্রকাশক ঐক্য, অমর একুশে বইমেলায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানাল

ঢাকায় অনুষ্ঠিত অমর একুশে বইমেলায় স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের অস্বচ্ছতা ও সময়সীমার সংকোচনকে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের প্রকাশকদের সমন্বয় সংস্থা প্রকাশক ঐক্য শনিবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে মেলায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রকাশক ঐক্যের সদস্যদের দাবি যে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয় এবং শেষ মুহূর্তে আবেদন জমা দিতে বাধ্য করা হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশক ঐক্যের প্রতিনিধিত্বকারী পনেরোটি প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে আহমদ পাবলিশিং হাউজের মেছবাহউদ্দীন, কাকলী প্রকাশনীর এ কে নাসির আহমেদ, অনন্যা প্রকাশনীর মনিরুল হক, অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলাম, অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের সৈয়দ জাকির হোসাইন, কথাপ্রকাশের জসীম উদ্দিন, বাতিঘর প্রকাশনীর দীপঙ্কর দাশ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের কামরুল হাসান শায়ক এবং ইউপিএল প্রকাশকের মাহরুখ মহিউদ্দীনসহ অন্যান্য প্রকাশকের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

প্রকাশক ঐক্য ১৮ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতিমন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রীর প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের সঙ্গে একটি বৈঠক করে। বৈঠকের পর তারা ঈদ-পরবর্তী মেলা আয়োজনের দাবি থেকে সরে এসে মেলায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনা ত্যাগ করে। যদিও এই সিদ্ধান্তে সম্ভাব্য ব্যবসায়িক ক্ষতি স্বীকার করা হয়, তবুও তারা মেলায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে।

বইমেলায় অংশগ্রহণের শেষ তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হওয়ায় প্রকাশক ঐক্য সংশ্লিষ্ট প্রকাশকদের আবেদন সম্পন্ন করে এবং তিন শতাধিক সাধারণ প্রকাশককে মেলায় অংশ নিতে রাজি করায়। এভাবে প্রকাশক ঐক্য বৃহৎ সংখ্যক প্রকাশকের সমর্থন পেয়ে মেলায় অংশগ্রহণের দাবি ত্যাগের পরেও প্রকাশকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেয়।

প্রকাশক ঐক্য স্পষ্টভাবে জানায় যে তারা কোনো প্যাভিলিয়ন গ্রহণ করবে না এবং অন্য কোনো প্রকাশককে প্যাভিলিয়ন না দেওয়ার দাবি করে। এই অবস্থান থেকে তারা সকল প্যাভিলিয়ন বাতিল করে সর্বোচ্চ পাঁচটি স্টল সমানভাবে ভাগ করার মৌখিক সমঝোতা অর্জন করে। তবে বাংলা একাডেমি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বহু প্রকাশককে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দিয়েছে বলে প্রকাশক ঐক্য অভিযোগ করে।

বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক এই অভিযোগের প্রতি মৌখিকভাবে আশ্বাস দেন যে বরাদ্দ প্রক্রিয়া বাস্তবসম্মত হবে, তবে বৈঠকের পরেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রকাশক ঐক্য একাধিকবার স্মরণ করিয়ে দিলেও বাংলা একাডেমী থেকে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা দেখা যায়নি।

বিবাদ সমাধানের জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০ টা পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারিত হয়। এই শেষ তারিখের পরেও কোনো সমাধান না পেলে ২১ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতিসচিবের ফোনে বিষয়টি পুনরায় তীব্র করা হয়। সংস্কৃতিসচিবের কলের মাধ্যমে প্রকাশক ঐক্যকে শেষ মুহূর্তে সমঝোতার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে এখনও প্যাভিলিয়ন বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

প্রকাশক ঐক্যের এই পদক্ষেপ অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের স্বচ্ছতা না থাকলে প্রকাশকরা সমান সুযোগ পাবে না, ফলে ছোট স্টল নিয়ে অংশগ্রহণ করা অমর্যাদাকর হবে বলে তারা যুক্তি তুলে ধরেছে।

বইমেলায় প্যাভিলিয়ন বাতিলের দাবি এবং সমান স্টল বরাদ্দের চাহিদা মেলাটির সংগঠন কাঠামোকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে। প্রকাশক ঐক্য যদি তাদের দাবি পূরণ না পায়, তবে ভবিষ্যতে আরও প্রকাশক মেলায় অংশ না নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যা মেলাটির আয় ও পাঠকসংখ্যার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রকাশক ঐক্য এখন পর্যন্ত যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, তা প্রকাশকদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি মেলাটির স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য একটি প্রস্তাবনা হিসেবে কাজ করবে। মেলাটির আয়োজক সংস্থা এবং বাংলা একাডেমীকে এই দাবিগুলোকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধান বের করা জরুরি, যাতে বইমেলায় সকল প্রকাশকের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments