23.9 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের নাম বাদে হট্টগোল, পুনরায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের নাম বাদে হট্টগোল, পুনরায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালীন মোনাজাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম না উল্লেখের কারণে ছাত্রদলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভাষাশহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

অনুষ্ঠানের সূচিতে প্রথমে শহীদ মিনারে শোকস্মরণে একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২:০১ টায় শোকস্মরণী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, ছাত্র ইউনিয়ন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বহু গোষ্ঠী শহীদ মিনারে সম্মানসূচক সমাবেশ করে।

সমাবেশের পর ১ মিনিটের নীরবতা পালন করা হয় এবং ভাষাশহীদদের আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতের দায়িত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব আশরাফ উদ্দিন খান।

মোনাজাতের সময় ইমাম সাহেব ভুলবশত জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করতে পারেননি, ফলে ছাত্রদলের কিছু সদস্যের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দেয়। ছাত্রদলের শাখা নেতারা তৎক্ষণাৎ বিরোধ প্রকাশ করে এবং নাম বাদ যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিরোধের সময় প্রায় দশ মিনিটের মধ্যে হট্টগোল ও তর্ক-বিতর্কের পরিবেশ তৈরি হয়। ছাত্রদলের দাবি অনুযায়ী নামটি ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তারা সন্দেহ প্রকাশ করে।

বিবাদ সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উদযাপন কমিটি দ্বিতীয়বার মোনাজাতের ব্যবস্থা করে। পুনরায় মোনাজাতের সময় একই ইমাম দায়িত্বে ছিলেন এবং এইবার জিয়াউর রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

দ্বিতীয় মোনাজাতে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, সদস্যসচিব মাসুদ রুমী এবং প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন। তারা মোনাজাতের সুষ্ঠু সম্পাদনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবসে প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম না বলা ইচ্ছাকৃত ছিল বলে তিনি মনে করেন। তিনি ইমামকে ভদ্র ও ন্যায়পরায়ণ বলে প্রশংসা করে, নাম বাদ দেওয়া প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইমাম আশরাফ উদ্দিন পরে জানান, মোনাজাতে নাম না বলা তার ভুল ছিল এবং তা সংশোধন করে দ্বিতীয়বার মোনাজাত করা হয়েছে। তিনি মোনাজাতের আগে দেশ, নতুন সরকার ও বিরোধী দলের জন্য দোয়া করতে নির্দেশ দেন, তবে অন্য কোনো নাম উল্লেখ করেননি।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্বের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে ভাষাশহীদদের স্মরণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মীরা এই দিনটি ভাষা সংরক্ষণের প্রতীক হিসেবে উদযাপন করে।

শহীদ মিনারের সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে অনুরূপ অনুষ্ঠানে নামের সঠিক উল্লেখের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানায়।

শিক্ষা সংক্রান্ত দৃষ্টিকোণ থেকে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সকল শোকস্মরণীর উপাদান সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চেকলিস্ট তৈরি করা উচিত। এ ধরনের চেকলিস্ট ব্যবহার করলে নাম বাদ যাওয়া বা অন্যান্য ত্রুটি রোধ করা সম্ভব হবে।

আপনার ক্যাম্পাসে যদি কোনো শোকস্মরণী বা মোনাজাতের আয়োজন থাকে, তবে পূর্বে সকল নাম ও শিরোনাম যাচাই করে নিন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করুন। এইভাবে অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও সম্মানজনকভাবে সম্পন্ন করা যায়।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments